CM Suvendu Adhikari: ‘রেজিনগরটা দেবেন তো?’ পরিবর্তে কী কী দেবেন ‘ফলতা মডেলে’ বলে দিলেন শুভেন্দু

Chief Minister Suvendu Adhikari in Rejinagar: প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর থেকে ১ লক্ষ ২৩ হাজারের বেশি ভোটে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। ভোট শতাংশের বিচারে তা ৫১ শতাংশের বেশি।

CM Suvendu Adhikari: ‘রেজিনগরটা দেবেন তো?’ পরিবর্তে কী কী দেবেন ‘ফলতা মডেলে’ বলে দিলেন শুভেন্দু
রেজিনগরে কর্মিসভায় শুভেন্দু Image Credit source: Tv9 Bangla

Jul 10, 2026 | 7:43 PM

রেজিনগর: বিধানসভায় বিজেপিকে ২০৯ করার চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রেজিনগরের কর্মিসভাতেই বেজে গেল উপনির্বাচনের ডঙ্কা। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামে জয় যে একপ্রকার নিশ্চিত তাও বললেন সোচ্চারে। তাঁর সাফ কথা, “নন্দীগ্রামটা আমার উপর ছেড়ে দিন। ওখানে কত ভোটে জিতব আমি জানি। সীমা নেই, অনেক বড় ভোটে জিতব।” কিন্তু তার পাখির চোখ যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরও তাও বোঝালেন গোটা সভাতেই। সংখ্যালঘুদের কথা মাথায় রেখেই দিলেন গুচ্ছ গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। অকপটেই সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বললেন, “রেজিনগরটা দেবেন তো? একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাব। যত আবাস লাগে দেব। যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব। নন্দীগ্রাম জিতে ২০৮ বিধায়ক হবে বিজেপির। এবার সংখ্যাটা ২০৯ হবে কিনা রেজিনগরের উপর নির্ভর করবে।” 

রেজিনগরে ফুটবে পদ্ম? 

প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর থেকে ১ লক্ষ ২৩ হাজারের বেশি ভোটে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। ভোট শতাংশের বিচারে তা ৫১ শতাংশের বেশি। সেখানে বিজেপির বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪ হাজারের কিছু বেশি ভোট। ভোট শতাংশের বিচারে তা প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূলের খাতায় ছিল ১৭ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। এবার সেই রেজিনগরেই বাকিদের ছাপিয়ে পদ্ম পদ্ম ফোটাতে চাইছেন শুভেন্দু। 

‘কার অহঙ্কার ভাঙতে হবে নামটা বললাম না’ 

তুলোধনা করলেন হুময়ুন কবীরেরও। নাম না করেই বললেন, “কাকে পাঠাবেন বিধানসভায়? যে ঝগড়া করবে, ধমকাবে, কমিউনিটির কথা বলবে, হিন্দু-মুসলমান করবে, মন্দির-মসজিদ করবে, না উন্নয়ন চাইবেন?” হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে বলেন, “দম্ভটা ভাঙতে হবে, অহঙ্কারটা ভাঙতে হবে। কার অহঙ্কার ভাঙতে হবে নামটা বললাম না। সামঝদারো কা ইশারা কাফি হ্যা। নাম বললে অনেকে হিরো হয়। তাই নাম বলার দরকার নেই।” 

এরপরই খানিক আশ্বাস দিয়ে, খানিক অতীত মনে করিয়ে শুভেন্দু বলেন, “উন্নয়ন যদি চান, হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ, আরও স্কুল, আরও কলেজ, আরও রাস্তা, আরো ব্রিজ, ঘরে ঘরে জল, কৃষকের অধিকার, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরবে– যদি চান তাহলে পদ্ম ফোটাতে হবে। ৮ বিধায়ক দিয়েছেন, ৯ জন চাই। রেজিনগরটা চাই।”  

‘আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু জানে’ 

কোনওভাবেই যে এই সরকার কোনওপ্রকার হিংসার ঘটনাকেই সমর্থন করবে না তা বলেছেন আগেই। পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, “ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙা, রেজিনগর, শক্তিপুরের মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে ফোন করার দরকার নেই। ভারতীয় ন্যয় সংহিতাতে যা বলা আছে, আপনি যে শৃঙ্খলিত বাহিনীর ট্রেনিং নিয়ে এসেছে সেই অনুযায়ী ডু ইট নাউ। পরিষ্কার খোলা ছুট দেওয়া হয়েছে।” এদিন রেজিনগরের সভাতেও সেই সুরই ফের একবার শোনা গেল পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর গলায়। তাঁর কথায়, “নারী, শিশু কন্যাদের উপর অত্যাচার কার্যত ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যধিকে কী করে মুক্ত করতে হয় আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু জানে।” 

নারী নির্যাতন ঠেকাতে যে সরকার বদ্ধপরিকর তাও সোচ্চারে বললেন শুভেন্দু। কীভাবে গোটা রাজ্যে পুলিশ নতুন রূপে সেজে উঠছে তাও আরও একবার বলতে গিয়ে বলেন, “থানায় থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে, দুর্গা স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। আপনারা বারুইপুরে পুলিশ মন্ত্রীর ভূমিকা দেখেছেন। আরও দেখতে পাবেন। এরপরই পুলিশকে জোরালো বার্তা দিয়ে বলেন, আজই বলেছি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির যত পুরনো কেস আছে সব বের করুন। চার্জশিট না হলে তা করুন, এফআইআর না হলে তা করুন। ছাড়া হবে না কাউকে।” 

‘হাতেনাতে ফল পাবেন’

এদিন শুভেন্দুর মুখে বারবার শোনা যায় ফলতার কথা। আরও ভালোভাবে বললে ‘ফলতা মডেলের’ কথা। যেভাবে জাহাঙ্গিরের দর্পচূর্ণ করে পদ্ম ফুটেছে ফলতায় তাতে যে উচ্ছ্বসিত পদ্ম ব্রিগেড তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার তাহলে রেজিনগরে কার দর্পচূর্ণ হবে? কারও নাম যদিও মুখে আননেনি শুভেন্দু। অন্যদিকে বারুইপুরে যেভাবে পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে অ্যাকশন নিয়েছে সে কথাও এদিন মনে করান শুভেন্দু। বলেন, “ফলতার মানুষ কথা দিয়েছিল রেখেছে। বারুইপুরের ওই ছোট্ট মেয়েটির পরিবারের লোকেরাও সংখ্যালঘু। ওনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। বাকিরাও রাখুন। ফল হাতনাতে পাবেন।”  

Follow Us