Nadia Triplet News: গর্ভে জমজ সন্তান রয়েছে বলেই জানতেন, দুই মা USG করাতেই মিলল তৃতীয় ‘সারপ্রাইজ’! শান্তিপুরে বিরল ঘটনা
Triplet Pregnancy: চিকিৎসকদের মতে, এক মায়ের গর্ভে তিন সন্তান থাকার ঘটনা বিরল নয়। তবে এই ধরনের গর্ভাবস্থা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বিশেষ চিকিৎসা পরিষেবা প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নদিয়া: বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী নদিয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বার গর্ভে যমজ নয়, রয়েছে তিন সন্তান। তাও আবার একজন নয়, দুই প্রসূতির গর্ভে রয়েছে তিনটি করে সন্তান। অর্থাৎ একই সময়ে দুই মায়ের গর্ভে বেড়ে উঠছে মোট ছয়টি সন্তান। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন দুই প্রসূতি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামিদিনে এই সরকারি হাসপাতালেই জন্ম নিতে পারে ছয় সন্তান।
শান্তিপুর থানা এলাকার বাসিন্দা সুজাতা সাঁতরা এবং কাঞ্চন বিশ্বাস। দুজনেই বর্তমানে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রথমে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁদের গর্ভে রয়েছে দুটি করে সন্তান। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইউএসজি করানোর পর জানা যায়, দুটি নয়, তিনটি করে সন্তান রয়েছে তাঁদের গর্ভে।
এরপর থেকেই শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের গাইনোকলজিস্ট চিকিৎসক ডা. পবিত্র ব্যাপারীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, কোনও আইভিএফ নয়, দু’জনের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ হয়েছে। তাঁদের আগের একটি করে সন্তান রয়েছে। এবার ফের গর্ভধারণের পর একই সঙ্গে তিনটি করে সন্তান গর্ভে এসেছে।
চিকিৎসকদের মতে, এক মায়ের গর্ভে তিন সন্তান থাকার ঘটনা বিরল নয়। তবে এই ধরনের গর্ভাবস্থা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বিশেষ চিকিৎসা পরিষেবা প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, দুই প্রসূতির পরিবারই আর্থিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। বেসরকারি হাসপাতাল বা নামী নার্সিংহোমে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার খরচ বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার উপরই ভরসা রাখছেন তাঁরা।
সুজাতা সাঁতরার স্বামী রাজেশ সাঁতরা বলেন, “সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্ন উঠলেও আর্থিক দুর্বলতার কারণে তাঁদের সরকারি হাসপাতালের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে”। তাঁর আশা, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্ত্রী এবং তাঁর গর্ভে থাকা তিন সন্তান সুস্থভাবে পৃথিবীর আলো দেখবে।
অন্যদিকে, কাঞ্চন বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যদের কথায়, চিকিৎসকরাই তাঁদের কাছে ভগবানের মতো। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায়, তাঁরাও শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপর আস্থা রেখেছেন।
চিকিৎসক পবিত্র ব্যাপারী বলেন, “গতকাল শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে দুই প্রসূতি মা আসেন। তাদের গর্ভস্থ সন্তানরা পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। তাদের দুইজনের গর্ভেই ত্রিপলেট রয়েছে। যমজ শিশু এখন খুবই সাধারণ বিষয়, তবে এদের দুজনেরই গর্ভে তিনটি করে সন্তান রয়েছে। এটি সচরাচর শোনা যায় না। এখন যেহেতু আইভিএফ হয়, তাই গর্ভে দুই বা তার অধিক সন্তান গর্ভে ধারণের ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে আমরা দুইটি সন্তান রেখে দিই। কিন্তু এদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গর্ভধারণ হয়েছে। যখন আমরা জানতে পারলাম, তখন মায়েদের বলি যে আপনাদের কাছে দুটি অপশন আছে, একটি সন্তানকে স্যাক্রিফাইস করা। কিন্তু তারা দুইজনই তিনটি সন্তান রাখতে চেয়েছেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত নজরদারি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি হাসপাতালেও এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ প্রসূতির নিরাপদ প্রসব সম্ভব। এখন চিকিৎসকদের নজর দুই মায়ের শারীরিক অবস্থার দিকে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে একই সরকারি হাসপাতালে দুই প্রসূতির গর্ভে থাকা তিনটি করে মোট ছয় সন্তান পৃথিবীর আলো দেখবে, যা নদিয়ার চিকিৎসাক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।
