Nadia Durga Idol: ‘আর্ট কলেজে পড়াতে পারিনি’, আক্ষেপ মায়ের, তাক লাগাচ্ছেন থার্ড ইয়ারের ছাত্র তৃষাণু
Durga Idol: পুজোর আর হাতে গোনা কয়েকদিন বাকি। তার আগেই তৃষাণু শেষ করে ফেললেন তিন ফুটের মহিষমর্দিনী মূর্তি তৈরির কাজ। তৃষাণু জানান, শুধুমাত্র পালবাড়ির প্রতিমা তৈরির কাজ চোখের সামনে দেখে, আর নিজের অদম্য চেষ্টায় মৃৎশিল্পের জগতে পা রেখেছেন বাদকুল্লার বাসিন্দার এই ছাত্র।

নদিয়া: ইচ্ছে ছিল ছেলেকে আর্ট কলেজে পড়াবেন। সেই সামর্থ্য হয়নি পরিবারের। তবু হাতে কাদামাটি মেখে খেলার ছলেই একদিন বানিয়ে ফেলেন মূর্তি। তথাকথিত কোনও শিক্ষা নেই, শুধুমাত্র নিজের চেষ্টায় মূর্তি বানিয়ে তাক লাগাচ্ছেন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তৃষাণু রায়। তবে শুধু শখ নয়, এটাই এখন তাঁর পেশা। তাঁর তৈরি করা মূর্তি বসছে মণ্ডপে। প্রতি বছর নিয়ম করে অর্ডার পাচ্ছেন তিনি। এবার তাঁর চমক তিন ফুটের মহিষমর্দিনী।
পুজোর আর হাতে গোনা কয়েকদিন বাকি। তার আগেই তৃষাণু শেষ করে ফেললেন তিন ফুটের মহিষমর্দিনী মূর্তি তৈরির কাজ। তৃষাণু জানান, শুধুমাত্র পালবাড়ির প্রতিমা তৈরির কাজ চোখের সামনে দেখে, আর নিজের অদম্য চেষ্টায় মৃৎশিল্পের জগতে পা রেখেছেন বাদকুল্লার বাসিন্দার এই ছাত্র।
পড়াশোনার ফাঁকে প্রায় তিন মাস ধরে নিজের হাতে মাটি, রং আর তুলি দিয়ে তৈরি করেছেন এই মহিষমর্দিনী। তৃষাণুর প্রতিভা দেখে রানাঘাটের এক পরিবার অনলাইনে যোগাযোগ করে এই প্রতিমার বরাত দেয়। এর আগেও একাধিক জায়গায় মূর্তি তৈরি করেছেন তিনি।
তৃষাণুর মা ডলি রায় জানিয়েছেন, মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই কাদামাটি নিয়ে নাড়াচাড়া করতেন তিনি। কখনও পাখি, কখনও ছোট ছোট মূর্তি, খেলতে খেলতেই বানিয়ে ফেলতেন।
মাটি-আঠা নিয়ে নানারকমের জিনিস বানাতেন তৃষাণু। মায়ের কথায়, ছেলেকে আর্ট কলেজে পড়ানোর ইচ্ছে ছিল, কিন্তু সংসারের আর্থিক টানাটানিতে তা সম্ভব হয়নি। সেই দুঃখ রয়েই গিয়েছে। কখনও পাখি, কখনও মানুষ ছেলেবেলায় আঁকা শিখেছেন, ব্যাস ওইটুকুই। আর কোনও হাতেকলমে শিল্পের শিক্ষা গ্রহণ করেননি তিনি।
ভবিষ্যতে অন্য পেশায় গেলেও, মাটি আর প্রতিমা তৈরির টান যে ছাড়বেন না, তেমনটাই বলছেন তৃষাণু।
