
রানাঘাট: বার্ধক্য ভাতা তুলতে গিয়েও পাননি। এরইমধ্যে দেখা যায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে নাম। নামের পাশে ‘ডিলিডেট’। মনে একরাশ উদ্বেগ নিয়ে দেখেন শুধু তিনি নয়, তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে স্ত্রী, কন্যা, এমনকী বিশেষভাবে সক্ষম ছেলের নামও। তারপর থেকে আতঙ্কে গোটা পরিবার। এরইমধ্যে প্রৌঢ়ের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য এলাকায়। শোরগোল রাজনৈতিক আঙিনাতেও।
নদিয়ার রানাঘাট থানার হবিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলাইঘাটায় বাসিন্দার জয়দেব দত্ত। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই এলাকাতেই থাকেন। মাঝে লম্বা সময় পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে ভিন রাজ্যে কাজ করেছেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে শুধু ছেলে। স্ত্রী লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন, আর জয়দেববাবু বর্তমানে মাঠে দিনমজুরের কাজ করে কোনওমতে সংসারের ঘানি টানছিলেন। তবে সঙ্গে প্রতি মাসে বার্ধক্য ভাতাও পাচ্ছিলেন। কিন্তু এবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতেই আর পাননি বার্ধক্য ভাতার টাকা। এখন তাঁর মৃত্যুতেই শুরু হয়েছে শোরগোল।
বুধবার রাতে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়দেববাবু। দ্রুত তাঁকে রানাঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাড়ির সকলের নাম তালিকা থেকে নাম বাদ চলে যাওয়ার পর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন জয়দেববাবু। বাড়ির সকলের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশও করেন বলে জানান স্ত্রী সুজলা দত্ত। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। হবিবপুর তৃণমূল কংগ্রেস অঞ্চল সভাপতি নব কুমার ভদ্র বলছএন, বিজেপির কথামতো নির্বাচন কমিশনের এই অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের জন্য মানুষের আজ এই পরিণতি হচ্ছে। অন্যদিকে রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলছেন, জয়দেববাবুর মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে। কিন্তু এর সঙ্গে এসআইআর আতঙ্ক জুড়ে প্রচার করা হচ্ছে।