
নদিয়া: তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসিমনকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। তাতেই ক্ষোভ। দলের পার্টি অফিস ভাঙচুর করল সিপিআইএম কর্মীরাই। কালীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ে তাণ্ডব চালালেন কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, দলে কোনও তাঁর অবদান না থাকা সত্ত্বেও কেন প্রার্থী করা হল সাবিনা ইয়াসমিনকে? এই ক্ষোভেই ফুঁসছেন দলের নীচু তলার কর্মীরা। দলীয় কর্মীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সিপিএম করছেন, বিভিন্ন আন্দোলন-প্রতিবাদে সামিল থেকেছেন, পুলিশের লাঠির ঘা খেয়েছেন। কিন্তু সাবিনা ইয়াসমিনের পূর্ব কোনও রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। সিপিএমের ক্ষেত্রে তাঁর কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নেই।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিজয় মিছিল থেকে নদিয়ার মোলান্দি গ্রামে বোমাবাজি করা হয়। সেই সময় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী, ১০ বছর বয়সী তামান্না খাতুন বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এই ঘটনা ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, সিপিএম তামান্নার মাকে প্রার্থী করে আসলে এই ‘সেন্টিমেন্ট’টাকেই কাজে লাগাতে চাইছে। মেয়ের সুবিচারের আশায় লড়াই চালাতে চালাতে নানা দিক থেকে মানসিক চাপ, হুমকি সহ্য করতে হয় তাঁকে। একটা সময়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এখনও লড়াই জারি রেখেছেন সাবিনা। তাঁর অভিযোগ, এখন আসল অপরাধীরা ধরা পড়েনি। তাঁদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন তিনি।