
নন্দীগ্রাম: একুশের পর ছাব্বিশও। এবারের নির্বাচনের ‘এপিসেন্টার’ যদি ভবানীপুর হয়, নন্দীগ্রামও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখানে এবারও লড়াই হচ্ছে ‘গুরু ও শিষ্যের’ মধ্য়েই। মমতার সঙ্গে লড়াইয়ে একুশে নন্দীগ্রামে জয় ছিনিয়ে আনার পর এবার শুভেন্দুর প্রতিপক্ষ তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী পবিত্র কর। তাঁরই কথায়, ‘এবারও নন্দীগ্রামে গুরু শিষ্যের লড়াই। আগের বার শিষ্য জিতেছিল, এবারও তাই জিতবে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী।
ভৌগোলিক অবস্থান
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া মহকুমার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত নন্দীগ্রাম-১ ও নন্দীগ্রাম-২ ব্লক নিয়ে গঠিত। উত্তরে হলদি নদী এবং পূর্বে ও দক্ষিণে হুগলি নদীর মোহনা। গাঙ্গেয় বদ্বীপের উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি মূলত কৃষিনির্ভর। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় জলপথ বা ফেরি সার্ভিস এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক সমীকরণ
২০০৭ সালের ভূমি উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের পর থেকেই নন্দীগ্রাম রাজ্যের রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে। একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি থাকলেও পরে এটি তৃণমূলের দুর্গে পরিণত হয়। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম প্রাক্তন সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেয়। বর্তমানে এখানে হিন্দু-মুসলিম ভোটের মেরুকরণ এবং স্থানীয় ‘ভূমিপুত্র’ আবেগ বড় ফ্যাক্টর। বিজেপি এবং তৃণমূল—উভয় দলই এখানে অত্যন্ত শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
নন্দীগ্রাম এবার ‘প্রেস্টিজ ফাইট’-এর সাক্ষী হতে চলেছে। একদিকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে শাসকদলের পবিত্র কর, যিনি একটা সময়ে শুভেন্দুরই ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
এবারে লড়াই কাদের মধ্যে?
শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি: বর্তমান বিধায়ক এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি নিজের গড় ধরে রাখতে মরিয়া।
পবিত্র কর, তৃণমূল: একসময়ের শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ এবং প্রাক্তন বিজেপি নেতা পবিত্র করকে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে। তাঁর দলত্যাগের পর এই লড়াইয়ে এক নতুন নাটকীয় মাত্রা যোগ হয়েছে।
শান্তি গিরি, সিপিআই
মহম্মদ সবে মিরাজ আলি খান, আইএসএফ