
পূর্ব মেদিনীপুর: ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের পুরনো একটি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে রবিবার দিনভর সরগরম হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনটি গাড়িতে চড়ে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের তারাচাঁদ বাড় এলাকায় যৌথ অভিযানে পৌঁছয় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
সেখানেই বাড়ি নন্দীগ্রাম ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি তথা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ানের। ২০০৭ সালের একাধিক ধারার মামলায় তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হলেও বাড়িতে তাঁর দেখা পাওয়া যায়নি। সুফিয়ানের জামাই হাবিবুর রহমান জানান, পুরনো ওই মামলায় অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তবে পুলিশ তাঁদের কাজ করেছে এবং তাঁরা আইনি পথেই এগোবেন।
এরপর ১ নম্বর ব্লকেরই হাজরাকাটা এলাকায় জমি আন্দোলনের আর এক তৃণমূল নেতা শেখ সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে হানা দেয় বাহিনী। পুলিশ বাড়িতে ঢুকতে গেলে প্রথমে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে মহিলা ও পুরুষ পুলিশ কর্মীরা ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালালেও খালি হাতেই ফিরতে হয় তাঁদের। সাহাবুদ্দিনের পরিবার কোনও মন্তব্য না করলেও ঠিক কোন মামলায় ও কী কী ধারায় এই অভিযান চালানো হয়েছে—তা দুই পরিবারের সদস্যদের কাছে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাক্তন বিধায়ক ও মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অখিল গিরি বলেন, “২০০৭ সালের যে মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই মামলাতেই দেখলাম ২ জনের বাড়ি আজ পুলিশ গিয়েছিল। কয়েকদিন বাদে নির্বাচন। এর মধ্যে কমিশন এটা না করতেই পারত।” এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে অবশ্য বিজেপির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।