North 24 Parganas: ‘এক কাপড়ে নিয়ে যাব’, বিয়ের পর শুরু আসল ‘খেলা’, সামনে এল শ্বশুরের ‘কীর্তি’
Dowry Death Allegation in North 24 Parganas: গৃহবধুর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকাল মেয়ের তাঁদের বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিছু সময় পরে তাঁরা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পান, খুশি আত্মহত্যা করেছেন। তবে খুশির পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়েকে মেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গোপালনগর: বিয়ের সময় কোনও কিছুই দাবি ছিল না পাত্রপক্ষের। এমন পাত্র দেখে হাতে যেন চাঁদ পেয়েছিল পাত্রীর পরিবার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির ‘মুখোশ’ খুলে যায়। জামাই দাবি করেন, তাঁকে দামি বুলেট বাইক দিতে হবে। বাইক ছাড়াও বিভিন্ন আসবাবপত্র দাবি করেন। যা দিতে না পারায় গৃহবধূকে মেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। গতকাল ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার ব্যাসপুরে। মৃতের নাম খুশি বিশ্বাস। ইতিমধ্যে মৃতার বাপেরবাড়ির পক্ষ থেকে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে থানার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাত তদন্তে নেমে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম বিশাল ভদ্র।
মৃতার বাপেরবাড়ির বক্তব্য, বছরখানেক আগে অশোকনগর থানার সেনডাঙার খুশি বিশ্বাসের বিয়ে হয়েছিল বিশাল ভদ্রের সঙ্গে। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে খুশিকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা চাপ দিতে থাকে বাপেরবাড়ি থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে আসার জন্য। খুশির গরিব বাবা মা জামাইয়ের আবদার না মেটাতে পারায় খুশিকে তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করত বলে খুশির পরিবারের অভিযোগ। গৃহবধুর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকাল মেয়ের তাঁদের বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিছু সময় পরে তাঁরা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পান, খুশি আত্মহত্যা করেছেন। তবে খুশির পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়েকে মেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন মৃতার বাবা?
খুশির বাবা পীযূষ বিশ্বাস বলেন, “বিয়ের সময় পাত্রপক্ষ বলেছিল, কিছু লাগবে না। এক কাপড়ে নিয়ে যাব। আমরা গরিব মানুষ। সেই দেখে দিয়েছি। কিছুদিন ভালোই ছিল। তারপর নির্যাতন শুরু হয়। চা খেতে দেয় না। বুলেট মোটরবাইক চায় জামাই। মেয়ে বলে, বাবা ধার করে বিয়ে দিয়েছে। পরে দেবে। কিন্তু, শোনেনি। মহারাষ্ট্রে মেয়েকে নিয়ে থাকত জামাই। সেখানে মেয়ের উপর জামাই এত অত্যাচার করত, ঘরের মালিক তাড়িয়ে দেয়।”
মেয়ের শ্বশুরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে খুশির বাবা বলেন, “আমার মেয়েকে দিয়ে তার শ্বশুর পা টেপাত। বলত, আমার সেবা আগে করতে হবে। কারণ, আমিই সংসার চালাই।” তাঁর অভিযোগ, “ওরা মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে আমার মেয়েকে। স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির কঠোর শাস্তি চাই।”
