
উত্তর ২৪ পরগনা: রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জামিনে মুক্ত। ছাব্বিশের নির্বাচনে লড়ছেনও তিনি। হাবড়ায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে পাশে বসিয়ে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, “বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে আমি শুনেছি। জেনে রাখুন. আমার সরকারে বালু যত ভাল কাজ করেছেন, কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসা করে গ্রেফতার করেছিল। কোনও প্রমাণ পাইনি। কেন গ্রেফতার করেছিল, কারণ পচা সিপিএম পার্টি দেড় কোটির নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়েছিল। তাঁদের রেশন ফলস নামে নিজেরা নিত। পার্টি ফান্ডের টাকা নিত। এই দেড় কোটি ফলস রেশন কার্ড বাদ দিয়েছিল বালু। এই চুরিটা ধরেছিল, তাই ওরা বিজেপিকে দিয়ে বালুর বিরুদ্ধে এটা করিয়েছে।”
এখানেই শেষ নয়, মমতা বলেন, “যে ডিজিট্যাল রেশন কার্ড আপনারা পেয়েছেন, এটা বালু করেছিল। এটা এত সহজ ছিল না। রেশনের মাল আগে যে পাচার হয়ে যেত, প্রত্যেকটা গাড়ির নম্বর রাখা, তাকে ট্যাপ করা, রেশনের সামগ্রী বদলে দিচ্ছে কিনা, সেটা খেয়াল করা, সব বালু করেছিল। এটা মাথায় রাখতে হবে। সেই ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল।”
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর গভীর রাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট প্রায় ২০ ঘণ্টা তল্লাশির পর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে সল্টলেকের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের দাবি, রাজ্যে রেশন বণ্টনের ক্ষেত্রে এক বিশাল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে এবং এর একটি বড় অংশ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাছে পৌঁছয়। ইডির অভিযোগে বলা হয়েছে, রেশনের আটা ও গম খোলা বাজারে পাচার করে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর আগে এই মামলায় ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাঁর সূত্র ধরেই মন্ত্রীর নাম উঠে আসে।
গ্রেফতারির পর থেকেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অসুস্থতার কারণে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। তাঁকেই ফের প্রার্থী করায়, স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ চড়েছে। এবার সেই বালুর পক্ষেই সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই নিয়ে বলেন, “তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, দেড় লক্ষ নাম সিপিএম ঢুকিয়েছিল, বছরের পর বছর তাঁদের নামে অ্যালোটিড চাল, ডাল, কেন্দ্রের পাঠানো, সেগুলো যেত কোথায়? বনগাঁতে কত ভালো ছেলে বালু, আমরা জানি তো। বনগাঁ বর্ডারে বেশ কয়েকটি ট্রাক ধরা হয়েছিল, সেগুলো বাংলাদেশে যাচ্ছিল। সেটা তো ভালোবেসেই বালু পাঠাচ্ছিল।”
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এত ভালো কাজ করেছে বালু, তাকে আবার মন্ত্রী পদে মুখ্যমন্ত্রী ফেরত নেননি কেন? জেল খাটা আসামীদের তো মন্ত্রী পদে ফেরত নিয়েছেন একাধিকবার। ওনার কাছে তো নীতি নৈতিকতার ব্যাপার নেই। এত ভালো বালু, তাঁকে ফেরত না নিয়ে উনি অপরাধ করেছেন, এটা আগে স্বীকার করুন।”