
কামারহাটি: বেরিয়ে গিয়েছে ফাইনাল লিস্ট। কিন্তু, কাজের চাপের অভিযোগের শেষ কিন্তু এখনও নেই। এবার ফের আরও এক বিএলও-র মৃত্যুর খবর আসছে কামারহাটির আনোয়ার বাগান এলাকা থেকে। পরিবারের সদস্য়রা বলছেন, এসআইআর-এর কাজের চাপেই এই অবস্থা হয়েছে মহম্মদ তাহির নামের ৫০ বছর বয়সী ওই বিএলও-র। এসআইআর পর্বে শুধু তাঁর ডিউটিই ছিল এমনটা নয়, সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
একদিকে কাজের চাপ অন্যদিকে তালিকায় নাম না থাকার চিন্তাতেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। একই কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর চাউর হতেই তা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কামারহাটির আনোয়ার বাগান এলাকায়। এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই গোটা রাজ্যেই লাগাতার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিএলও-রা। হয়েছে বিক্ষোভ, কমিশনের দফতরের সামনে বসেছে ধরনা। বরাবরই মূল অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে। এসেছে একের পর এক মৃত্যুর খবর। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর কম হয়নি। সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। এবার লিস্ট সামনে আসার পরেও নতুন করে আরও এক মৃত্যুর খবরে বাড়ছে চাপানউতোর। এলাকার এক বাসিন্দা বলছেন, “ওনার নাম বিচারাধীন তালিকায় চলে যাওয়ায় অনেকেই ফোন করে জানতে চাইছিলেন। তাতেই মানসিক চাপে ছিলেন তিনি।”
কয়েকদিন আগেই এসআইআর-এর শেষ পর্বে আরও এক বিএলও-র মৃত্যুর খবর আসে মালদহ থেকে। মৃত্যু হয় সুজাপুর অঞ্চলের বাসিন্দা কালিয়াচক হাইস্কুলের সহকারি শিক্ষক মহম্মদ আনিকুল আলামের (৫৪)। তাঁর মৃত্যু ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর চলতে থাকে। এ ক্ষেত্রেও পরিবারের অভিযোগ ছিল নির্বাচন কমিশনের দিকেই। এই বিএলও-র নিজের ফর্মও ফেরত এসেছিল বলে জানান তাঁর ছেলে।