
তমলুক: তমলুকে জমি নিয়ে বিবাদ। চিকিৎসকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। স্ত্রী ও মেয়েকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার হুমকি। অভিযোগ অস্বীকার ক্লাব কর্তৃপক্ষের। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি চিকিৎসক সহ অন্য জমি শরিকদের।
তমলুকের এক চিকিৎসকের সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয় একটি ক্লাবের বিবাদ হয়। অভিযোগকারী চিকিৎসকের দাবু, তিনি ২০০৭ সাল থেকে তমলুকের ধারিন্দা এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি করে বসবাস করছেন। বাড়ি করার পর থেকেই কিছু দুষ্কৃতী তাঁকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করছে। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় ক্লাবের কমল মাইতি, নারায়ণ ফদিকার ও বলরাম ফদিকার-সহ কয়েকজন মিলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে মানসিকভাবে অত্যাচার করছেনন।
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে তিনি একটি জমি কেনেন। সেই জমি ব্যবহার করতে গেলে স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যরা বাধা দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, ওই জমিতে প্রাচীর দেওয়া হলেও সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে ধর্ষণ এবং জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে আমার মেয়ে লন্ডনে থাকে, সে আর বাড়ি ফিরতে চাইছে না। পুরো বিষয়টি থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, সতীশ মণ্ডল নামে আরেক ব্যক্তি জানান, তাঁর ছেলে এবং ওই চিকিৎসক যৌথভাবে জমিটি কিনেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরা জোর করে জমিটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের উপদেষ্টা কমিটির সম্পাদক কমল মাইতি বলেন, “ক্লাব ১৯৮৫ সাল থেকেই রেজিস্টার্ড। তাঁর ওই চিকিৎসক অনেক পরে ওই এলাকায় জমি কিনেছেন এবং একসময় তিনি ক্লাবের সদস্যও ছিলেন। যে জমি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটির একটি অংশ ক্লাবের এবং একটি অংশ আমাদের। ওই চিকিৎসক কিছু অসামাজিক লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করার চেষ্টা করছেন। জমিটি নিয়ে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এখনও জমির পার্টিশন হয়নি। সেই কারণেই ক্লাবের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে।”