
পশ্চিম মেদিনীপুর: রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়ে স্বামী হারানোর প্রায় এক যুগ পার। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চরম প্রতিকূলতা ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করে দুই সন্তানকে বড় করে চলেছেন এক অসহায় স্ত্রী। কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়েও মেলেনি কোনও সরকারি সাহায্য। এবার গত ২৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে শুভেন্দু সরকার। নিহতদের পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতেই বুক বাঁধছে প্রহ্লাদ রায়ের পরিবার।
২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল ঘাটালে একটি রাজনৈতিক জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন বামফ্রন্ট নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। সেই সভা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঘাটালের বরদা চৌকান এলাকায় রাজনৈতিক হিংসার মর্মান্তিক শিকার হয়ে খুন হন চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের পুড়শুড়ি গ্রামের বামফ্রন্ট কর্মী প্রহ্লাদ রায়। এই আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পর স্বামীহারা রমা রায় কোলজুড়ে দুই নাবালক সন্তান এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েন। শুরু হয় তাঁর এক কঠিন জীবনযুদ্ধ।
অসহায় রমা দেবী অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ এবং মাঠে চাষের কাজ করে কোনোমতে তাঁর সন্তানদের লালন-পালন করেছেন। অভাবের তাড়নায় নবম শ্রেণির পর আর ছেলেকে পড়াশোনা করাতে পারেননি। ফলস্বরূপ, বর্তমানে সংসারের হাল ধরতে অল্প বয়সেই একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতে বাধ্য হয়েছে তাঁর ছেলে। পরিবারের আক্ষেপ, যেই রাজনৈতিক দলের হয়ে জীবন দিয়েছিলেন প্রহ্লাদ রায়, পরবর্তীকালে সেই দলও আর কোনো খোঁজ রাখেনি। এমনকি গত ১২ বছরে কীভাবে তাঁদের দিন কাটছে, তার কোনো সুরাহা মেলেনি।
দীর্ঘ ১২ বছরের এই বঞ্চনা ও অবহেলার পর প্রহ্লাদ রায়ের পরিবারের একটাই মাত্র আর্জি—রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই দুঃস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং পরিবারের অন্তত একজনের জন্য একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেন, তবে কিছুটা হলেও ঘুচবে তাঁদের দীর্ঘদিনের অনটন ও কষ্ট।