
পশ্চিম মেদিনীপুর: শুরু থেকেই দাম ছিল না। তীব্র মন্দা বাজারে। তার উপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো নেমেছে এসেছে সাক্ষাৎ দুর্যোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে চরম ক্ষতির মুখে পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষকরা। অকাল বর্ষণ, শিলাবৃষ্টির কারণে চন্দ্রকোনা ও ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার জমি এখন কার্যত জলের তলায়। বিঘার পর বিঘা জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রচুর আলু পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি রয়েছে। আলু তোলার শেষবেলায় মাথা হাত কৃষকদের।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এমনিতেই জেলার আলু চাষের ‘গড়’ হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু শুক্রবার রাতের প্রবল শিলাবৃষ্টি, সকালের টানা বর্ষণে চন্দ্রকোনার নিচন্যা, বাঁশবেড়িয়া, বেলাদণ্ড এবং ঘাটালের ইনাতপুর, কুরান এলাকার ছবিটা রীতিমতো চোখে জল আনার মতো। মরিয়া হয়ে কৃষকরা কেউ জলমগ্ন জমি থেকে আলু তুলে আনার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার নালা কেটে জমির জল বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু বৃষ্টির পরিমাণ এতই বেশি যে, জমি থেকে জল নামানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এমনিতেই বাজারে আলুর দাম তলানিতে ঠেকায় কৃষকরা প্রবল ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। প্রকৃতির কোপে সেই ক্ষতি এবার চরম আকার ধারণ করেছে। কৃষকরা বলছেন এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে কৃষকদের খরচ প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বাজারে বর্তমানে প্রতি কুইন্টাল আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। এই দামে আলু বিক্রি করে বৃষ্টি শুরুর আগেই বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন চাষিরা। এর উপর জমিতে জল দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বাকি যে আলু মাঠে ছিল তাও পচে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এলাকার অনেক কৃষকই বলছেন, তাঁরা বাড়ির জিনিসপত্র বন্ধক রেখে, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন। এখন বিঘের পর বিঘে জমি এভাবে জলের তলায় চলে যাওয়ায় এই বিপুল আর্থিক ধাক্কা কীভাবে সামলাবেন, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না তাঁরা।