PM Narendra Modi : ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর সঙ্গে ‘সবকা হিসাব’ হবে , হুঙ্কার মোদীর
PM Narendra Modi : ব্রিগেডের সরকারি মঞ্চ থেকে বাংলার জন্য ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাজনৈতিক সভামঞ্চ থেকে বক্তৃতা রাখছেন নরেন্দ্র মোদী। একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফের সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী।
ভোট আবহে শহরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৫ বছর পর ফের ব্রিগেডে মোদীর জনসভা। ব্রিগেডের মঞ্চে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। দক্ষিণেশ্বরের থিমে গড়ে তোলা হয়েছে মঞ্চ। প্রথমে ব্রিগেডের সরকারি মঞ্চ থেকে বাংলার জন্য ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক সভা থেকে বক্তৃতা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডের সভা থেকে ফের একবার সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কী বললেন প্রধানমন্ত্রী ?
বাংলার জন্য একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,” আজ কলকাতার মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতের বিকাশের নয়া অধ্যায় শুরু হচ্ছে। সড়ক, রেলওয়ে ও বন্দর পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ১৮ হাজার কোটির বেশি প্রকল্পের শিল্যান্যাস ও উদ্বোধন হল। বাংলার উন্নয়নে নয়া দিশা দেখাবে এই প্রকল্পগুলি। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন সহজ ও সুন্দর হবে। নতুন সুযোগ মিলবে। খড়গপুর-মৌরিগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের অনেকাংশে আর্থিক উন্নতি হবে। দুবরাজপুর বাইপাস,কংসাবতী, শিলাবতী নদীর উপর যে সেতু তৈরি হবে, তাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের জনগণকে শুভেচ্ছা।”
প্রকল্পে ৬টি অমৃত ভারত স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। মোদী বলেন, “আজ কামাখ্যাগুড়ি, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বীরভূম ও সিউড়ি… এই ছয় স্টেশন অমৃত স্টেশন করা হচ্ছে।” বন্দরও সংস্কার করা প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। এই বিষয়ে মোদী বলেন, “হলডিয়া ডক ও কলকাতা ডকের সংস্কার করা হচ্ছে। খিদিরপুর ডকেও কার্গো হ্যান্ডেলিং বাড়ানোর উপর নজর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলির ফলে পূর্ব ভারতের লজিস্টিক সিস্টেমের আরও উন্নতি হবে।”
রাজনৈতিক সভা থেকে বাংলা থেকেই বক্তৃতা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী ভাই ও বোনেরা আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম। বাংলার ঐতিহাসিক মাটি, এই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আর বাংলার মানুষের ঐতিহাসিক জমায়েত। যত দূর আমার চোখ যাচ্ছে, শুধুই লোকই লোক দেখা যাচ্ছে। একটা অদ্ভুত দৃশ্য। আপনাদের এই উৎসাহ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, বাংলার মানুষের মনে কী চলছে। যাঁরা দেখার, তাঁরা এই ছবিটা দেখুক।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, ‘বাংলা থেকে নির্মম সরকারের বিদায় হবে। বাংলা থেকে মহাজঙ্গলরাজ শেষ হবে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়াজ উঠছে, ‘চাই বিজেপি সরকার, চাই বিজেপি সরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আজও ব্রিগেড সভা আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে বারাবার। তিনি বলেন, “আজ এই সভা আটকানোর জন্য নির্মম সরকার সব হাতিয়ার ব্যবহার করতে চেয়েছে। ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, গাড়ির উপর হামলা করা হয়েছে। ট্রাফিক জ্যাম করেছে, পোস্টার ছিড়ে দিয়েছে।” তাঁর হুঙ্কার, “এত কিছু করেও নির্মম সরকার জনপ্লাবনকে আটকাতে পারেনি। বাংলায় মহাজঙ্গলরাজের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।”
মোদীর বক্তব্য আজও উঠে এল মনীষীদের কথা। তিনি বলেন,”রামকৃষ্ণ পরমংহদেব, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্য়াসাগর থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রানী রাসমনিদের মতো মহান ব্যক্তিরা যে বাংলার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিজেপি সেই বাংলারই নতুন করে নির্মাণ করবে। বাংলার উন্নতি সঠিক নীতিতে হবে। বাংলায় এখন আমাদের সরকার নেই। কিন্তু তাও কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যে বিজেপি বাংলার উন্নতির চেষ্টা করে চলেছে।”
চাকরি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলা একসময় গোটা ভারতের বিকাশে সাহায্য করত। শিল্প-বাণিজ্যে সবার আগে ছিল বাংলা। কিন্তু এখন বাংলার যুবরা ডিগ্রি নিতে পারছে না। রোজগারও হচ্ছে না। চাকরি নেই। কাজের জন্য অন্য রাজ্যে পালাতে হচ্ছে। প্রথমে কংগ্রেস, পরে কমিউনিস্ট, এখন তৃণমূল…এরা বাংলায় এসেছে। শুধু পকেট ভরেছে। আর বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতি হচ্ছে। চাকরি খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এখন সময় এসেছে বদলানোর। যুবরা বাংলার উন্নতিতে যাতে নেতৃত্ব দেয়, এই স্বপ্ন আপনার আর এই স্বপ্ন পূরণ করাই মোদীর গ্যারান্টি।”
ব্রিগেডের জনসভা থেকে আবারও কেন্দ্রের প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন,”নির্মম সরকার বাংলার উন্নয়নে ব্রেক কষে রেখেছে। কেন্দ্রের সূর্যঘর প্রকল্প চালু করতে দিচ্ছে না। তৃণমূল চায় না বাংলার মানুষের বিদ্যুৎ বিল শূন্য হোক। চা শ্রমিকরাও প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে না। আয়ুষ্মান প্রকল্পে ৫ লাখ টাকা করে পাচ্ছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু, সেই প্রকল্প থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। তৃণমূল সরকারের পতন হলেই গরিবদের জন্য পাকা ঘর তৈরি শুরু হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি। বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে যাবে, বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। বাংলায় সুশাসন আসবে।”
মোদীর বক্তব্যে উঠে এল সন্দেশখালি, আরজি করের মতো ঘটনা। মোদী বলেন,”নির্মম সরকার ধর্ষকদের আশ্রয় দেয়। অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। সন্দেশখালি, আরজিকরের ঘটনা ভোলেনি বাংলার মানুষ। অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে। “
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও ফের সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাকে লুটে নিচ্ছে। জনিন্যাস বদলে দিয়েছে। আর বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘু করে দেওয়া হচ্ছে। ওরা হিন্দুদের নিজের ভোট ব্যাংক মনে করে না। বাংলাকে এখন অসুরক্ষিত বানিয়ে ফেলেছে। কোটি কোটি বাঙালিকে শেষ করার চেষ্টা করছে।”
ব্রিগেডের ময়দান থেকে নতুন মন্ত্র বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, “একদিকে আমরা সবকা সাথ, সবকা বিকাশের মন্ত্র নিয়ে চলব। আরেকদিকে সবকা হিসাব লিয়া যায়গা।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। অপরাধীদের জায়গা হবে জেল।”
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতেও সুর চড়ালেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি জনজাতিদের অনুঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। কিন্তু অহঙ্কারে ডুবে থাকা সরকার রাষ্ট্রপতিকে অপমান পর্যন্ত করেছে। তৃণমূলের মনে রাখার দরকার ওরা শুধু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কে অপমান করেনি,ওরা দেশের সংবিধান, বাবা সাহেব আম্বেদকর, দেশের হাজার লক্ষ জনজাতি মানুষদের অপমান করেছে।”