
পূর্বস্থলী: পরপুরুষের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে স্ত্রীর। সন্দেহ করতেন স্বামী। আর সেই সন্দেশের বশেই স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে স্ত্রীকে খুন করেও তাঁর মধ্যে কোনও অনুশোচনা দেখা গেল না। পুলিশ তাঁকে আটক করতেই গটগট করে পুলিশের সঙ্গে থানায় গেলেন। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের।
শুক্রবার কালেখাতলা ১ পঞ্চায়েতের চাপাতলা এলাকায় এক গৃহবধূর গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়। মৃতার নাম পিঙ্কি দেবনাথ। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তি ও সন্দেহের জেরে স্বামী প্রিয়লাল দেবনাথ দিনদুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে খুন করেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরপুরুষের সঙ্গে পিঙ্কির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন প্রিয়লাল। এদিন দুপুর নাগাদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর গলার নলি কেটে খুন করেন তিনি। ঘটনার পর বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তাঁকে আটক করে পুলিশ।
পূর্বস্থলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। কিরণ চক্রবর্তী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “প্রথমে শুনতে পেয়েছিলাম, মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন। নিজের গলায় নিজে ছুরি চালিয়েছেন। পরে জানা যায়, মহিলার স্বামী খুন করেছেন।” বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “মহিলা এক জায়গায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী সন্দেহ করতেন, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। কিন্তু, ওসব নয়। মহিলা ওখানে কাজ করতেন।” প্রাণনাথ দাস নামে আর এক প্রতিবেশী বলেন, “ওদের পরিবারে সবসময় স্বামী-স্ত্রীর ঝামেলা হত।”
তবে স্ত্রীকে খুনের পরও প্রিয়লাল যেভাবে নির্বিকার ছিলেন, তা দেখে প্রতিবেশীরা অবাক হয়ে গিয়েছেন। এদিন পুলিশ আটক করার পর গটগট করে হেঁটে পুলিশের গাড়িতে গিয়ে ওঠেন অভিযুক্ত।