Bhagirathi River Nears Railway Track: ‘গিলতে’ আসছে নদী, সমুদ্রগড়ে রেললাইন নিয়ে বাড়ছে আশঙ্কা
Howrah-Katwa railway line erosion threat: একদিকে ভাগীরথীর প্রবল স্রোত, অন্যদিকে মাত্র কয়েক হাত দূরেই রেললাইন। বর্ষার জল বাড়লেই এই দুয়ের দূরত্ব যেন আরও কমে আসে। আর নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে কীভাবে ভাঙনের কবলে চলে যাচ্ছে নদী সংলগ্ন জমি।

পূর্বস্থলী: রেললাইনের দিকে ‘এগিয়ে’ আসছে নদী। বর্ষায় ভাগীরথীর জল বাড়লেই নদীর জল পৌঁছে যায় রেললাইনের একেবারে কাছে। তার উপর রয়েছে পাড় ভাঙন। ভাঙন রোধে কাজ হলেও জলস্তর বাড়লেই ধীরে ধীরে রেললাইনের দিকে এগোয় নদী। ফলে আতঙ্কে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর সমুদ্রগড়ের জালুই ডাঙার বাসিন্দারা। আশঙ্কা, এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে বিপদে পড়তে পারে হাওড়া-কাটোয়া শাখার রেল যোগাযোগ।
একদিকে রেললাইন, অন্যদিকে ভাগীরথী। মাঝখানে দূরত্ব বলতে কার্যত মাত্র ৫০ ফুটের মতো। আর বর্ষার জল বাড়তেই সেই দূরত্ব আরও কমে আসে। কালনা মহকুমার পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের সমুদ্রগড় স্টেশন। হাওড়া-কাটোয়া শাখার গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশন থেকে কিছুটা দূরেই জালুই ডাঙাগ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী। নদীর পাড় থেকে সামান্য দূরেই রয়েছে রেললাইন।
এখন কানায় কানায় বইছে নদী। জলস্তর আরও বাড়লে নদীর জল উপচে পড়বে পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায়। প্লাবিত হবে নদী সংলগ্ন ফাঁকা জমি। আর সেই জল পৌঁছে যাবে রেললাইনের কাছেও। তাতেই তৈরি হচ্ছে নতুন আশঙ্কা। জল ঢুকে রেললাইনের মাটি ক্ষয়ে গেলে তৈরি হতে পারে ধসের পরিস্থিতি। আর তাতে ব্যাহত হতে পারে হাওড়া-কাটোয়া শাখায় ট্রেন চলাচল।
এলাকাবাসীর দাবি, ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় নদীর জল উঠে এসেছিল রেললাইন পর্যন্ত। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রেললাইন। বন্ধ রাখতে হয়েছিল ট্রেন চলাচলও। এরপর থেকেই জালুই ডাঙার এই অংশটি কার্যত রেলের নজরে। প্রায় তিন বছর আগে নদীভাঙন ঠেকাতে নেট দিয়ে বোল্ডার ফেলা হয়েছিল নদীর পাড়ে। তাতে কিছুটা ভাঙন আটকানো গেলেও পুরোপুরি সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রতি বর্ষায় জল বাড়ে, স্রোত বাড়ে। আর তার সঙ্গে ক্ষয়ে যায় নদীর পাড়ের মাটি। ভেঙে যাচ্ছে পাড়, জমি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এভাবেই ধীরে ধীরে নদী এগিয়ে আসছে রেললাইনের দিকে।
একদিকে ভাগীরথীর প্রবল স্রোত, অন্যদিকে মাত্র কয়েক হাত দূরেই রেললাইন। বর্ষার জল বাড়লেই এই দুয়ের দূরত্ব যেন আরও কমে আসে। আর নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে কীভাবে ভাঙনের কবলে চলে যাচ্ছে নদী সংলগ্ন জমি। প্রশ্ন উঠছে, সময় থাকতে ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থা না হলে, এই রেললাইনকে কি আদৌ নিরাপদ রাখা সম্ভব?
স্থানীয় বাসিন্দা নজু শেখ, বাসুদেব ঘোষ, গোলক রাজবংশীরা বলছেন, শুধু অস্থায়ীভাবে বোল্ডার ফেলে নয়, পরিকল্পনা মাফিক স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধের কাজ করতে হবে। রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই সরকারের যৌথ উদ্যোগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের। কারণ নদীর স্রোত থামছে না। ভাঙনও থামছে না। আর রেললাইনের সঙ্গে নদীর দূরত্বও ক্রমশ কমছে। ফলে সময় থাকতে ব্যবস্থা না হলে আগামী দিনে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
