
আউশগ্রাম: ভোট শেষ হতেই উত্তেজনা পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের হুমকির জেরে ভোট শেষে কয়েকটি বুথে আটকে পড়েন তাদের এজেন্টরা। শেষপর্যন্ত তাঁদের আনতে বৃষ্টির মধ্যেই বুথে পৌঁছে যান পদ্ম শিবিরের প্রার্থী। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিজেপির কর্মীদের মারধরও করেছেন বলে অভিযোগ আউশগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজির। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া বুধবার বাংলার ১৪২টি আসনে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে যাওয়ার পর আউশগ্রামে উত্তেজনা ছড়াল বিজেপির পোলিং এজেন্টদের আটকে পড়ার অভিযোগকে ঘিরে। অভিযোগ, শাসকদলের হুমকির জেরে গুসকরা পৌরসভার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক বুথে এজেন্টরা বাইরে বের হতে পারেননি।
বিজেপির দাবি, ভোট শেষ হওয়ার পর বুথ থেকে বেরোলেই তাঁদের দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ফলে অন্তত ছ’টি বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্টরা ভিতরেই আটকে পড়েন। এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আউশগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে তাঁর ছেলে সেখানে গেলে তাঁকেও লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। বিজেপি প্রার্থী বলেন, তাঁর ছেলে ও একাধিক বিজেপি কর্মীকে মারধর করা হয়। এরপর প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই রাতে নিজে বুথে বুথে ঘুরে পোলিং এজেন্টদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন তিনি। পরে ওই এজেন্টদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি বলেন, “ভয়ে আমাদের এজেন্টরা বুথের বাইরে বের হতে পারেননি। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এসব করছে।”
কী বলছে তৃণমূল?
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসকদলের পোলিং এজেন্ট উৎপল লাহার দাবি, হুমকির কোনও ঘটনা ঘটেনি। তাঁর বক্তব্য, “সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনও অশান্তি হয়নি এলাকায়। বিজেপি প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো অভিযোগ করছেন।” তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। এলাকায় অবশ্য মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।