
আউশগ্রাম: এদিকে নির্বাচনী উত্তাপ আর অন্যদিকে প্রখর রোদে যখন গলা শুকিয়ে কাঠ, ঠিক তখনই আউশগ্রামের সুরাপ্রেমীদের জন্য ত্রাতা হয়ে দেখা দিল তালগাছ! ভোটের প্রচারে যখন পদ্ম বনাম ঘাসফুল লড়াই তুঙ্গে, তখন আউশগ্রামের অনেকেরই দেখা মিলছে ওই তালগাছ তলাতেই। প্রশাসনের কড়া নির্দেশে মদের দোকানের ঝাঁপ এখন বন্ধ, চারদিকে চলছে ‘ড্রাই ডে’। কিন্তু তাতে কী? সুরাপ্রেমীরাও দমে যাওয়ার পাত্র নন। মদের বোতল না মিললে কী হবে, আউশগ্রামের আনাচে-কানাচে এখন বিকল্প নেশার ঠিকানা হয়ে উঠেছে তাল গাছতলা। কারও হাতে ভাঁড়ভর্তি টাটকা তালরস, কোথাও আবার গোপনে বসে ছোটখাটো আড্ডা।
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তালরসের জুড়ি নেই, কিন্তু ভোটের আবহে এর গুরুত্ব যেন রাতারাতি কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। স্থানীয়রা রসিকতা করে বলছেন, বিলাতি পানীয় যখন অমিল, তখন প্রাকৃতিক এই রসই সই! অনেকে তো আবার এক ধাপ এগিয়ে বলছেন, মনের খিদে তো অন্তত মেটে! প্রশাসনের নজর এড়াতে ভোর থেকেই নির্জন তালবাগানে বসছে গোপন আসর। একটু বেলা বাড়লেই ফারমেন্টেশন বা গেঁজিয়ে ওঠার ফলে এই রস যে হালকা ‘কিক’ দেয়, সেই টানেই এখন আউশগ্রামের সুরাপ্রেমীদের একমাত্র গন্তব্য ওই তালগাছের ছায়া।
নির্বাচনী কড়াকড়ির মাঝে এই তালরসই যেন এলাকার অন্যতম চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিক্রেতা স্বপন মণ্ডলে যেমন খদ্দেরের ভিড় সামলাতে একেবারে হিমশিম খাচ্ছেন, তেমনই রঞ্জিত সাহানির মতো ক্রেতারাও খুশি বিকল্প খুঁজে পেয়ে। সব মিলিয়ে, রাজনীতির লড়াইয়ের মাঝে আউশগ্রাম এখন মেতেছে তালরসের মিষ্টি নেশায়! ভিড় জমছে ভাঁড় ভর্তি টাটকা তালরসের জন্য।