
বর্ধমান: নির্বাচনী প্রচারে নতুন করে জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবারের সভা থেকে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ধাঁচে এবার গোটা রাজ্যে চালু হবে দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা, যেখানে মানুষের বাড়ির কাছেই পৌঁছে যাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা। সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যে কৃষকদের স্বার্থে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আলু চাষিদের জন্য বিমা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পাবেন। তিনি অভিযোগ করেন, বন্যার সময় কেন্দ্রীয় সরকার যথাযথ সাহায্য করে না।
তিনি আরও বলেন, “রাজ্যে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বিজেপি খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে পাশাপাশি আশ্বাস দেন, প্রত্যেক বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে কোনও কাঁচা বাড়ি থাকবে না।সবই কাঁচা বাড়িই পাকা বাড়িতে রূপান্তরিত হবে।”
বিজেপিকে কটাক্ষ করে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “যুবসাথীদের জন্য কাজের ব্যবস্থা আমরা করবই।” নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের সময় সবকিছু নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বিরোধী দল ভোটের আগে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তিনি সতর্ক করেন, অচেনা কারও কাছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য না দেওয়ার জন্য।
বিরোধী বিজেপিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারা বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা পূরণ করে না। সভা থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং অভিযোগ করেন, তার সভার অনুমতি দিতে দেরি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার বিষয়েও সরব হন। সবশেষে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, “প্রার্থী নয়, কাজ দেখে ভোট দিন। ২৯৪টি আসনেই আমিই প্রার্থী।”