
বর্ধমান: ‘ফাইমোসিস’ অস্ত্রোপচার করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর ছেলেকে আর ফেরাতে পারলেন না বাড়ি। চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃ্ত্যু হয় ছেলের, ভয়ঙ্কর অভিযোগ পরিবারের। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হতেই পাল্টা হুমকি ফোন। AI দিয়ে ছবি নগ্ন করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পরিবারের। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে।
জানা গিয়েছে, বছর বাইশের অভিযোগকারিণী ওই শিশুটির মা পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের পশ্চিম খরমপুরের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁর ছেলে অরণ্য রায়কে ‘ফাইমোসিস’ অস্ত্রোপচারের জন্য বর্ধমানেরএকটি নার্সিংহোমে ভর্তি করেছিলেল। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে ওই দিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বর্ধমান সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
শিশুটির মায়ের দাবি, এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া সাতটা নাগাদ একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে ফোন আসে। অভিযোগ, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে জানানো হয়, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর মুখ ব্যবহার করে নগ্ন ছবি তৈরি করা হয়েছে এবং সেই ছবি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তবে এখনও পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে ওই ধরনের কোনও পোস্টের সরাসরি লিঙ্ক তিনি দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন। কিন্তু অচেনা নম্বর থেকে এমন হুমকি পাওয়ার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে দাবি তাঁর।
কে বা কারা ওই ফোন করেছিল এবং শিশুমৃত্যুর অভিযোগের সঙ্গে এই হুমকির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে মন্তেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারিনী। অভিযোগ পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ফোন নম্বরটির সূত্র, হুমকির সত্যতা এবং এআই ব্যবহার করে কোনও আপত্তিকর ছবি তৈরি বা সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল কি না তদন্তে সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিশুটির মা বলেন, “আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি, তারপর যেহেতু বিচার চাইছি, তাই এগুলোও আবার সহ্য করতে হচ্ছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব, যেন দোষীরা শাস্তি পায়।” যদিও এর পাল্টা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।