
পূর্বস্থলী: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে জেলা পুলিশের আয়োজিত সমন্বয় সভামঞ্চ থেকেই নারী নিরাপত্তা ও থানার বর্তমান কর্মপদ্ধতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিলেন পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়। বিধায়কের বক্তব্য, “এখনও থানাগুলোতে পুরনো কালচার চলছে, নারীরা ঠিকমতো অভিযোগ জানাতে পারছে না।”
আসন্ন শারদোৎসবে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভিড় সামলানো, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ সচেতনতা এবং মহিলা হেল্পডেস্কের মাধ্যমে নারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার পুষ্পা, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বিভিন্ন থানার পুলিশ আধিকারিক এবং পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা।
নিরাপত্তা ও নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশাসনিক আলোচনার মাঝেই গোপাল চট্টোপাধ্যায় সরাসরি সোচ্চার হন। তিনি বলেন, “দেবী দুর্গার পাশাপাশি আমরা লক্ষ্মী, সরস্বতী বা শক্তির দেবীর আরাধনা করি এই বাংলায়। অথচ সেখানেই নারী সুরক্ষার জন্য আলাদা ক্যাম্প করতে হচ্ছে, এটা বড় বিপর্যয় এবং লজ্জার বিষয়।” তাঁর কথায়, “আজও জেলার থানাগুলিতে পুরোনো মানসিকতা ও কাজের পরিবেশ বজায় রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মহিলারা গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ও সুরক্ষিত বোধ করে অভিযোগ জমা করতে পারছেন না।”
জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিধায়ক মনে করিয়ে দেন যে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে মন্ত্রী—শীর্ষ প্রশাসনিক পদগুলিতে মহিলারাই আসীন। তাই নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই জেলাকেই সমগ্র রাজ্যকে পথ দেখাতে হবে। আগামী এক বছরে জেলায় যাতে কোনো নারী নিগ্রহের শিকার না হন এবং কোনও ধর্ষক বা অপরাধী যেন ছাড় না পায়, সে বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও কড়া ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।