
নন্দীগ্রাম: বামেদের ভোট বামেদের কাছেই আছে। নন্দীগ্রামের উপ নির্বাচনের ফলাফল সে কথাই বলছে। নিজেদের ভোটের রেকর্ড কার্যত নিজেরাই ভেঙেছে বামেরা। পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথম ভোট এই উপনির্বাচন। ফলাফলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের প্রভাব একেবারে সুস্পষ্ট। গণতান্ত্রিক তৃণমূল জায়গা পেয়েছে সবার শেষে। মমতা তৃণমূল এই কেন্দ্রে কংগ্রেসকেই সমর্থন করেছে। কংগ্রেস রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে আর তৃতীয় স্থানে সিপিএম।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা রাজনৈতিক চিত্র ছিল অনেকটাই আলাদা। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। সেই ভোটে বাম প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি পেয়েছিলেন ২৯৭৭টি ভোট। ১.১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বামেরা। শুক্রবার দেখা গেল, উপ নির্বাচনের ফলাফলে ১২ রাউন্ড গণনা শেষে বামেদের ঝুলিতে গিয়েছে ৫০০০ ভোট। এবারও প্রার্থী সেই শান্তিগোপাল গিরিই।
অন্যদিকে, আর একটু পিছনে ফিরলে দেখা যাবে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মীনাক্ষ মুখোপাধ্যায় ৬,২৬৭ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর পাওয়া ভোট শতাংশ ছিল ২.৭৭ শতাংশ। তাই বলা যেতে পারে, বামেদের ভোট বামেদের হাতেই রয়েছে।
২ দশক আগে এক মার্চে পুলিশের গুলিতে এই নন্দীগ্রামে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু ঘিরে আগুন জ্বলেছিল নন্দীগ্রামে। বাম সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা রাজ্যে। পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। তারপর অনেক রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছে নন্দীগ্রাম। ২০২১-এ সেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার উপনির্বাচনে সেই কেন্দ্রে রেকর্ড মার্জিনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ।