
পূর্ব মেদিনীপুর : উপনির্বাচনের মুখে নন্দীগ্রামে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়ে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান বর্তমানে জেলবন্দি। তবে কলকাতা হাইকোর্ট বৃৃহস্পতিবারই স্পষ্ট করেছে, তাঁকে অন্তবর্তী জামিন দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর হয়ে দলীয় প্রচারে নামতে চেয়েছিলেন স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। কিন্তু শুক্রবার নন্দীগ্রাম বাজারে তাঁর নির্ধারিত জনসভার অনুমতি দিল না প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকা সভা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কংগ্রেসের পরিকল্পনা ছিল, প্রার্থী অনুপস্থিত থাকলেও অর্পিতা প্রধানকে সামনে রেখেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইবেন দলীয় কর্মীরা। শুক্রবার থেকেই সেই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সভার অনুমতি না মেলায় কংগ্রেসের দাবি, ধাক্কা খেয়েছে দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি।
এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের প্রশ্ন, নিয়ম মেনে আগেই আবেদন করা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে কেন সভা বাতিল করা হল?
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “কমিশন দলদাসে পরিণত হয়েছে। আজ নন্দীগ্রামে সভা করার কথা ছিল মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতার। সঙ্গে আমাদের নেতা বিবেক যোশী থাকতেন। আমরা নিয়ম মেনে সময়ের অনেক আগে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কোনও কারণ না দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন আমাদের সভার অনুমতি দেয়নি।”
সিপিআইএম জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য পরিতোষ পট্টনায়ক বলেন, “বিজেপি আসলে জয়ী হওয়ার পরও ভীত। তাই বিরোধীদের বিভিন্ন সভা-কর্মসূচিতে অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। অন্যান্য বিরোধী দলের মতো আমাদেরও বিভিন্ন আবেদন গৃহীতই হয়নি, কোনওটা বা পেন্ডিং পড়ে রয়েছে।” যদিও এই গোটা বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব।