
নন্দীগ্রাম: সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সেই বার্তার পর রবিবার ‘বন্ধুত্বের’ ছবি দেখা গেল নন্দীগ্রামে। উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রীর ব়্যালির সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে পোস্টার হাতে দেখা গেল সংখ্যালঘুদের। আর শুভেন্দুর ব়্যালির পর সংখ্যালঘুরা জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় তাঁরা খুশি। আর ব়্যালি শেষে মুখ্যমন্ত্রীও বললেন, “প্রচারে বেরিয়ে আমার দেখে মনে হল, আমার বন্ধুত্বের আহ্বান অনেকটা কাজ করবে।”
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনের নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এদিন রোড শো করেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ১ব্লকের হাজরাকাটা রাজরামচক থেকে রোড শো শুরু হয়। প্রথমে হুডখোলা জিপে পরে নিজেই গাড়িতে করে সাধারণ ভোটারদের অভিবাদন গ্রহণ করে এগিয়ে যান সামসবাদ মীরের বাজার পর্যন্ত। রাস্তায় আসার পথে কোথাও উত্তরীয় দিয়ে কোথাও আবার ফুল ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান নন্দীগ্রামবাসী। সংখ্যালঘু পাড়ায় পোস্টার হাতে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দেন বাসিন্দারা। পোস্টারে লেখা, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পাশে আছি। আমরা বন্ধুত্ব করতে চাই সরকারের সঙ্গে।’
কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?
মুখ্যমন্ত্রীর রোড শোতে উপস্থিত থাকার পর শেখ নাসির আহমেদ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বন্ধুত্বের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ব়্যালিতে আমরা সংখ্যালঘু ভাইবোনেরা হাজির হয়েছি।” শেখ জহিরুল আলম নামে আর একজন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় আমরা খুশি।” মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের মাঝে প্রচারে আসায় তাঁরা যারপরনাই খুশি জানিয়ে আব্দুল মালেক মল্লিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, “দেড় লক্ষ ভোটে জিতবেন বিজেপি প্রার্থী।”
রোড শো নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
উপনির্বাচনের প্রচারে সংখ্যালঘু এলাকায় রোড শো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই এলাকাতে আমার মনে হয়, ভারতীয় জনতা পার্টি প্রথম কোনও কর্মসূচি করতে পারল। একুশ ও ছাব্বিশের বিধানসভা, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন এবং তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানে প্রচার করিনি। কারণ, বাইরে থেকে লোক নিয়ে গিয়ে প্রচার করার কোনও মানে হয় না। এখানকার বুথগুলিতে বিজেপি কার্যত শূন্য ভোট পেয়েছিল।”
এরপরই তিনি জানান, “এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের দলের নেতৃত্বকে বলেছিলেন, যদি মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় আসেন। আজ প্রচারে বেরিয়ে আমার দেখে মনে হল, আমার বন্ধুত্বের আহ্বান অনেকটা কাজ করবে। পুরোটা নয়। আপনি হাত বাড়ালে আমি ধরব।”