
নন্দীগ্রাম: ঘরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নন্দীগ্রামজুড়ে কার্যত উৎসবের আমেজ। সেইসময় নিজের ঘরে বসে পুরনো সব দিনের কথা মনে পড়ছে তাঁর। নন্দীগ্রাম আন্দোলন। সেখানে আজকের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব। সব চোখের সামনে ভাসছে তাঁর। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেইসব পুরনো দিনের কথা স্মরণ করলেন নন্দীগ্রামের শহিদের মা ফিরোজা বিবি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক তিনি। তৃণমূলের ভরাডুবির কারণও ব্যাখ্যা করলেন। এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে কী কী বললেন তিনি?
নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে আজকের পরিবর্তন-
সাড়ে ৫ বছর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূলের এই ভরাডুবির কারণ কী? নন্দীগ্রামের শহিদের মা ফিরোজা বিবির সোজাসাপ্টা উত্তর, “মানুষ চেয়েছেন। তাই হয়েছে। তবে মমতা সরকারের পতন হবে ভাবিনি। কিন্তু নিচের তলার নেতাদের ব্যবহারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।”
একসময় নন্দীগ্রামের বিধায়ক ছিলেন ফিরোজা বিবি। তারপর শুভেন্দু নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোয় তিনি পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে প্রার্থী হয়ে বিধায়ক হন। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। টিভি৯ বাংলার সঙ্গে কথা বলার সময় জানালেন, তাঁর শরীর খারাপ। ফলে বাড়িতেই রয়েছেন। আর বাড়িতে বসে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে নিয়ে এদিনের উচ্ছ্বাস দেখতে দেখতে তাঁর নন্দীগ্রাম আন্দোলনে শুভেন্দুর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা মনে পড়ছিল। তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম। তারপর শুভেন্দু এসে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।” আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ফিরোজা বিবি বললেন, “মমতা একবার বোধহয় এসেছিলেন। ঘেরাও হয়েছিলেন। তারপর আসতে পারেননি।”
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় খুশি-
২০২০ সালের ডিসেম্বরে শুভেন্দু বিজেপিতে গিয়েছেন। তারপর থেকে তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই বলে জানালেন ফিরোজা বিবি। তবে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তিনি খুশি বলে জানালেন। বললেন, “শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় আমি খুশি। ব্যবহার ভালো হলে অবশ্যই খুশি। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের ছেলে। উনি তো এখানকার ভোটার।” বিগত কয়েক বছরে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ করে তাঁর আশা, এবার নন্দীগ্রামের ভালো হবে।
শুভেন্দুকে কী পরামর্শ-
নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে কী পরামর্শ দেবেন নন্দীগ্রামের শহিদের মাতা? প্রশ্ন শুনেই ফিরোজা বিবি বলেন, “শুভেন্দুকে বলব মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো। রাজধর্ম পালন করো। যাতে করে মানুষের আশীর্বাদ নিতে পারো, সেরকম কাজ করো।”
বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে, বিজেপি সংখ্যালঘুদের বিরোধী। সেকথা শুনেই ফিরোজা বিবি বলে উঠলেন, “সংখ্যালঘু সংখ্যালঘু বলছেন, আমি তো সংখ্যালঘু। শুভেন্দু আর শুভেন্দুর বাবাই আমাকে দেশ দেশান্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন।”