
রামনগর: সোনারপুরের ঘটনা মনে আছে? ছেলেকে গলায় ওড়না জড়িয়ে খুন করেছিলেন মা। এবার আরও এক গুণধর মায়ের কীর্তি চলে এল প্রকাশ্যে। দ্বিতীয় বিয়ে করছেন মহিলা। স্বামীর সঙ্গে নির্ঝঞ্ঝাট সংসার চেয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই কারণে নিজের নাবালক সন্তানকে ঘুম থেকে তুলে মুখ বেঁধে এলোপাথাড়ি মার নিজের মা ও সৎ বাবার। মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ভেবে নাবালককে বাদাম চাষের মাঠের ঝোপের আড়ালে ফেলে এলেন বলে অভিযোগ। তবে কথায় আছে না রাখে হরি মারে কে? কোনও ক্রমে রক্ষা পেল ওই শিশু। ঘটনায় অভিযুক্ত মা-বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থানা এলাকার উত্তর হলদিয়া গ্রামের খয়রান্ডা এলাকায়। অভিযুক্ত মা মামনি গিরি ও সৎ বাবা শুকদেব মণ্ডল। জানা গিয়েছে, মামনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন শুকদেবকে। এরপরই ‘পথের কাঁটা’ সন্তানকে উপড়ে ফেলতে চান মা। অভিযোগ, গভীর রাতে ছ’বছরের ওই শিশুকে ঘুম থেকে প্রথমে তোলে মা-বাবা। মুখ বেঁধে এলোপাথাড়ি মার নিজের মা ও সৎ বাবার। শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ভেবে গুণধর স্বামী-স্ত্রী একটি ফাঁকা বাদাম চাষের মাঠের ঝোপের আড়ালে রাতের অন্ধকারে ফেলে দিয়ে আসে। জানা গিয়েছে, সারা রাত ঠান্ডায় জ্ঞানহীন অবস্থায় পড়েছিল সে। এলাকাবাসীর অনুমান, অভিযুক্ত মা-সৎ বাবা ভেবেছিলেন হয়ত রাতেই শেয়াল টেনে ছিঁড়ে খেয়ে দেহ লোপাঠ করে দেবে।
কিন্তু শিশুটির ভাগ্যের জোরে টানা প্রায় আট ঘণ্টার পর সকালে জ্ঞান ফিরে আসে। তাও আবার লাল পিঁপড়ের কামড়ে। কিছুটা দূরে একটি বাড়িতে শিশু নিজেই গুরুতর আহত অবস্থায় কোনও রকমে কাঁদতে কাঁদতে পৌঁছয়। এরপর ওই বাড়ি থেকে একটু খেতে চান। তারপরই অজ্ঞান হয়ে যায় সে।
এলাকাবাসীর দাবি, শিশুটির দু’টি হাত ভেঙে গিয়েছে। গায়ে পায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন, মাথায় ফোলা আঘাতের চিহ্ন। ওই অবস্থায় তাকে দেখে শিউরে ওঠেন ওই পরিবারের লোকেরা। ঘটনা চাউর হতেই ছুটে আসে গ্রামবাসী। এরপরই সবটা শুনে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে শিশুর মা ও সৎ বাবাকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে। আজ তাদের কাঁথি আদালতে তোলা হবে। উদ্ধারকারী যুবক দীপ পাত্র বলেন, “আমার মা বলেন একটা বাচ্চা আমাদের বাড়ি এসেছে। ও অসুস্থ। ওর মা-বাবা মেরে ফেলতে চাইছিল। তারপর আজ যখন সুস্থ হয় তখন ও সব ঘটনা খুলে বলে।”