
পূর্ব মেদিনীপুর: স্কুলের জমি বিক্রি করে আর্থিক তছরূপ করার অভিযোগ! বেআইনি জমির মালিকানা হস্তান্তরের অভিযোগ তুলে নন্দীগ্রাম এস আই অফিসে ডেপুটেশন দিল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুলের কোনই জমি বিক্রি হয়নি ভিত্তিহীন অভিযোগ। নন্দীগ্রাম ১নম্বর ব্লকের নন্দীগ্রাম বাজার সংলগ্ন অতি প্রাচীন স্কুল গুলির মধ্যে অন্যতম নন্দীগ্রাম ব্রজমোহন তিয়াড়ি শিক্ষা নিকেতন। যা নন্দীগ্রামে বিএমটি হাই স্কুল নামে পরিচিত।
ডেপুটেশন প্রদানকারীদের অভিযোগ, ১৯২০ সালের আগে ব্রজ্মোহন তিয়াড়ি হাই স্কুল, নন্দীগ্রাম হাই স্কুল, এবং নন্দীগ্রাম ইংরেজি মাধ্যম হাই স্কুলের নামে আলাদা আলাদা জায়গার আলাদা আলাদা রেকর্ড ছিল। কিছুদিন আগে এস.আইর অর্থাৎ স্কুল পরিদর্শকের মদতে নন্দীগ্রাম হাই স্কুল এবং নন্দীগ্রাম ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নামে জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে সমস্ত জমি নন্দীগ্রাম ব্রজমোহন তিয়াড়ি শিক্ষা নিকেতনের নামে পরিবর্তন করা হয়।
একটি ইংরেজির মাধ্যম স্কুল করা হবে বলে বেশ কিছু জায়গা বিক্রি করে অন্যত্র জায়গা কেনা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে এই রেকর্ড পরিবর্তন করা হয়েছিল। সরকারি দামের থেকেও কম দামে জমি বিক্রি করা হয়েছে এবং যে নতুন জমি কেনা হয়েছে তা সরকারি দামের থেকে দুই গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে।
সরকারি জমি কোন কর্তৃপক্ষ এবং স্কুল পরিদর্শক কীভাবে বিক্রি করতে পারে এমনটাই অভিযোগ ডেপুটেশন প্রদান কারীদের।
তাঁদের অভিযোগ, আর্থিক তছরূপ হয়েছে এবং বেআইনিভাবে জমি হস্তান্তর হয়েছে। কারণ পরবর্তীকালে জমির সমস্ত রেকর্ড বিএলআরও সংশোধন করেছে। আগে যেমন তিনটি স্কুলের নামে জায়গার রেকর্ড ছিল বর্তমানে তিনটি স্কুলের নামে জায়গার রেকর্ড বিএলআরও সংশোধন করেছে। বেআইনিভাবে তাহলে আগে কেন জায়গার সমস্ত রেকর্ড পরিবর্তন করে শুধুমাত্র ব্রজমোহন তিয়াড়ি শিক্ষা নিকেতনের নামে করা হয়েছিল।
এই অভিযোগ তুলে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা এসআই অফিসে ডেপুটেশন দেয়।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে স্কুল পরিদর্শক দাবি করেছেন, “সরকারি অনুমতি নিয়ে সমস্ত কাজকর্ম করা হয়েছে।” অপরদিকে ব্রজমোহন তিয়াড়ি শিক্ষানিকেতনের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত কুমার শাসমল বলেন, “১৯২০ সালের আগে এই স্কুলের নির্দিষ্ট কোন নাম ছিল না বিভিন্ন ব্যক্তি স্কুল তৈরির জন্য জমি দান করেছিল। তখন কেউ নন্দীগ্রাম হাইস্কুলের নামে জমি দান করেছে, কেউ নন্দীগ্রাম ইংরেজি মাধ্যম হাইস্কুলের নামে জমি দান করেছে। তখন স্কুলের নির্দিষ্ট কোন নাম ছিল না। ব্রজমোহন বাবু জমি দান করার পরে তার নামে এই স্কুল শুরু হয়।”
তাঁর আরও দাবি, “এতদিন পর্যন্ত এই স্কুলের সমস্ত জমির কাগজ সমস্যা ছিল। এর আগের কোন প্রধান শিক্ষক সেটা ঠিক করার মানসিকতা দেখাননি। বর্তমানে সবার সাহায্য নিয়ে সমস্ত কাগজপত্র পরিবর্তন করে সঠিক করা হচ্ছে। আর নন্দীগ্রাম হাই স্কুল আর ইংরেজি মাধ্যম হাই স্কুল এই দুটি স্কুলের কোন অস্তিত্ব নেই।”
তাঁর দাবি, সমস্ত সম্পত্তি নন্দীগ্রাম ব্রজ মোহন তিয়াড়ি শিক্ষা নিকেতনের সম্পত্তি। এবং স্কুলের জমি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সরকারি অনুমতি নিয়ে করা হয়েছে।। ব্রজ মোহন তিয়াড়ি শিক্ষা নিকেতনের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরী করার লক্ষ্যে স্কুলের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে নতুন একটি জমি কেনা হয়েছে। জমিদাতা পরিবারের সদস্য শম্ভু তিয়াড়ি বলেন, “আমাদের পরিবার এই স্কুলকে জমি দান করেছিল। এই স্কুলের নামে যদি আরেকটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল নতুন ভাবে হয় তাকে আমরা সমর্থন জানিয়েছি। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি নিয়ম মেনে সবটা করা হয়েছে।”