
বারুইপুর: দু’জনেই একই দলের। একজন রাজ্যের ডাকসাইটে মন্ত্রী ছিলেন। অন্যজন ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। আজও দু’জনে এক দলে থাকলেও শিবির আলাদা। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। আর বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলে। এবার ফিরহাদকে কটাক্ষ করলেন তাঁর একসময়ের সঙ্গী বিমান। ফিরহাদের ‘উদ্দেশ্য’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। একইসঙ্গে তৃণমূল আমলে বিধানসভায় বিভিন্ন বৈঠকে বিরোধীদের না ডাকা নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর মন্তব্যকে মিথ্যে বলে দাবি করলেন প্রাক্তন স্পিকার।
ফিরহাদকে নিশানা করে কী বললেন বিমান?
ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকে রাজ্যের নতুন সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রশংসা শোনা যায় ফিরহাদের মুখে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে যেভাবে বিরোধীদেরও ডাকেন, তা নিয়েও উচ্ছ্বসিত প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী। শুক্রবার নবান্নে ঋতব্রত, ফিরহাদদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেরিয়ে এসে শুভেন্দুর প্রশংসা করেন ফিরহাদ। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, আগে বিরোধীদের বৈঠকে ডাকা হত না। বিধানসভায় বিরোধীদের বলতে দেওয়া হত না। প্রাক্তন মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে অসত্য দাবি করে তোপ দাগলেন বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূলের বিধায়ক তথা প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান।
রবিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে বসে ফিরহাদের মন্তব্য নিয়ে মুখ খোলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক বিমান। টিভি নাইন বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “বিধানসভার বিজনেস অ্যাডভাইজারির বৈঠকে বিরোধীদের ডাকা হত। কিন্তু, তাঁরা আসতেন না। বিরোধীদের আগে ডাকা হত না বলে ফিরহাদ হাকিম যেটা বলেছেন, একথা আদৌ সত্য না। আমাদের বিধানসভাতে যত অল পার্টি মিটিং হত, সব মিটিংয়ে বিরোধীদের ডাকতাম। চিঠি দিতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিরোধীরা রেসপন্স করতেন না।”
এরপরই তিনি বলেন, “বিধানসভায় আমি বিরোধীদের অনুরোধ করেছি যে বিধানসভার গরিমাটা বজায় রাখুন। আপনারা মিটিংয়ে আসুন। তা সত্ত্বেও তাঁরা আসতেন না। ফিরহাদ হাকিম আরও বলেছেন যে, ওদের অর্থাৎ বিরোধীদের বলার সুযোগ দেওয়া হত না। আমি তো অবাক হয়ে গিয়েছি যে উনি তো একটা মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ওঁর দফতর নিয়ে যখন আলোচনা হত, তখন দু’ঘণ্টার মধ্যে ৫০ শতাংশ সময় আমি বিরোধীদের দিতাম। যদিও সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তাঁদের অতটা সময় পাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু বিরোধীরা যাতে সব সময় কথা বলতে পারেন, তার জন্য সবসময় সুযোগ করে দিয়েছি।”
ফিরহাদকে খোঁচা দিয়ে বিমান বলেন, “তবে এটা উনি কী উদ্দেশ্য নিয়ে বলেছেন তা আমি জানি না। আমার মনে হয়, যে বক্তব্যটা উনি বলেছেন, একটু সংশোধন করে নেওয়া উচিত।” ফিরহাদের ‘উদ্দেশ্য’ কী, জানতে চাওয়া হলে বিমান বলেন, “সেটা আমি বলতে পারব না।”