
দেবব্রত মণ্ডল: ভোটের মুখে ফের তপ্ত ক্যানিং। ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বাহিরসোনা এলাকায় বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত বায়েনকে প্রচারে বাধা ও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বাহিরসোনা গ্রামে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে বেরিয়েছিলেন প্রশান্ত বায়েন। অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন আচমকাই একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায়। বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয় এবং প্রচার বন্ধ করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায় এবং নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় প্রার্থী মাঝপথেই প্রচার কর্মসূচি স্থগিত রাখতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে প্রশান্ত বায়েন সরাসরি ক্যানিং থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, এলাকায় তাঁদের জনসমর্থন বাড়তে দেখে আতঙ্কিত হয়েই শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। যদিও পালটা অভিযোগে স্থানীয় শাসকদল এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে।
ক্যানিং পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত বায়েনের বক্তব্য, “আমাদের ওপর তৃণমূল আশ্রীত দুষ্কৃতী চড়াও হয়। লাঠি সোটা নিয়ে তেড়ে আসে। ইট ছোড়ে। আমাকে কর্মীরা সরিয়ে নিয়ে যায়। তবে আমার কর্মীরা আহত হয়েছেন। এখানে পুলিশি নিরাপত্তা কতটা, সেটা বুঝতে পারছি না। CRPF জওয়ানদের ভূমিকা কোথায়? পুলিশ সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছে না। আমরা ক্যানিংয়ের আইসি-র সঙ্গে কথা বলছি।”
এই ঘটনায় ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পরেশ রাম দাস বলেন, “ওরা দুইজন মাতাল, মদ্যপ অবস্থায় ছিল। এর সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সম্পর্ক নেই।”
নির্বাচনের প্রাক্কালে ক্যানিংয়ের এই অশান্তি নতুন করে জেলা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এলাকায় বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বারবার প্রচারের ক্ষেত্রে এই ধরনের বাধাদানের ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটপ্রক্রিয়ার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল।