
কাকদ্বীপ ও কলকাতা: আট বছর আগের এক নৃশংস ঘটনা। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালিতে সিপিএম সমর্থক দম্পতি দেবু দাস এবং ঊষা দাসকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনায় এফআইআর তালিকায় নাম থাকা ১০ জনকে এতদিন গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কিন্তু, গতকাল মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মৃতের পরিবার দেখা করার পরই পুলিশ তৎপর হল। অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করল কাকদ্বীপ থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যও রয়েছেন।
সিপিএম সমর্থক ওই দম্পতিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল আইপিএস দময়ন্তী সেনকে। পরে তদন্তভার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় দময়ন্তীকে। এরপর আইপিএস মুরলীধর শর্মাকে দায়িত্ব দেয় আদালত। সেই নির্দেশ পেয়ে আইপিএস মুরলীধর শর্মা বুধাখালি গ্রামে গিয়েছিলেন। যে বাড়িতে সিপিএম সমর্থক দেবু দাস ও ঊষা দাসকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল সেই বাড়ি খতিয়ে দেখেছিলেন। পরিত্যক্ত বাড়িটির থ্রিডি ম্যাপিং করা হয়েছিল। কাকদ্বীপ থানার তৎকালীন তদন্তকারী অফিসারকেও ডেকে কথাও বলেছিলেন মুরলীধর শর্মা। ছিল ফরেন্সিক দলের সদস্যরাও। নিহত সিপিএম সমর্থকদের প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময় দেবু দাস ও তাঁর স্ত্রীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। বাবা-মা তৃণমূলে যোগ দিতে না-চাওয়ায় তাঁদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন ওই দম্পতির ছেলে দীপঙ্কর দাস। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য ওই অভিযোগ মানতে চাননি। বাবা-মায়ের ‘হত্যা’র ঘটনায় সুবিচার না পেয়ে ২০২৩ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দীপঙ্কর।
গতকাল নিহত দম্পতির ছেলে দীপঙ্কর দাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁকে ভবানী ভবনে পাঠানো হয়। এরপরেই কাকদ্বীপ থানার পুলিশ নড়েচড়ে বসে। রাতেই ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য অমিত মণ্ডল রয়েছেন।
কী বললেন মৃত দম্পতির পুত্র?
মৃত দম্পতির পুত্র দীপঙ্কর দাস এদিন বলেন, “গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা দেখা করি। তিনি ডিজিপিকে সব শোনার জন্য বলেন। ডিজিপিকে আমরা সব বলি। বিগত সরকারের কাছে বিচারের অপেক্ষা করছিলাম। কিছু হয়নি। কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এতদিন। এবার বিচার পাব বলে আশা করছি। এই সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত ১৮ জুন প্রথমদিন বিধানসভার অধিবেশন বসার পর আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছিলাম। গতকাল পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করি। মুখ্যমন্ত্রী পরিবারের কাছে শুনেছেন। তারপর ডিজিপির কাছে পাঠান। অবশ্যই এটাকে সাধুবাদ জানাই। মুখ্যমন্ত্রী প্রথম থেকে বলছেন, আইনের শাসনের কথা। আমি চাইব, আগামী ৫ বছর যেন এরকম আইনের শাসন বজায় থাকে।”
এই গ্রেফতারি নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “যাঁরা অন্যায় কাজ করেছেন, একশোবার গ্রেফতার করা হোক। অন্যায় কাজ করে ধরা পড়েনি, মুখ্যমন্ত্রী যদি ধরে থাকেন, তাহলে ভালো কাজ করছেন। কিন্তু, দশচক্রে ভগবান ভূতের মতো চারটে দোষীর সঙ্গে পাঁচটা রাগের কারণে নাম দিয়ে দিয়েছে, এমন হলে তাঁদের জীবনটাও যেন নষ্ট করে না দেওয়া হয়।”