
আমতলা: ঝাঁ চকচকে পাঁচতলা ভবন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ভবনের আশপাশে ঘেঁষতে পারতেন না এতদিন। ভবনটি কী জন্য ব্যবহার করা হয়, তা অবশ্য তাঁরা জানতেন। ভবনের গায়েই বড় করে লেখা ‘সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়’। সত্যিই কি শুধু একজন সাংসদের কার্যালয় ছিল আমতলার এই পাঁচতলা ভবন? শনিবার অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে প্রশাসন ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করতেই একের পর এক বিস্ময়কর জিনিস সামনে আসছে। তার মধ্যে অন্যতম, প্রত্যেকটি ফ্লোরে একটি ঘরে ডিজিটাল লকের ব্যবহার। একজন সাংসদের কার্যালয়ের সুরক্ষায় ডিজিটাল লক কেন ব্যবহার করা হত, সেই প্রশ্ন উঠছে।
গতকাল প্রশাসনের তরফে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করার পর দেখা যায়, পাঁচতলা ভবনের প্রতিটি তলাতেই রয়েছে ডিজিটাল লক। তা ভাঙতে ডাকা হয় দমকলকে। শাবল দিয়ে ডিজিটাল লক ভাঙেন দমকল কর্মীরা। দমকল কর্মীরা জানালেন, ভেতরে একাধিক মূল্যবান সামগ্রী ও ফাইল রয়েছে। সেগুলোকে ডিজিটাল লক করে রাখা হত। পাঁচতলা ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রত্যেকটি ফ্লোরে একটি ঘরে ডিজিটাল লক রয়েছে বলে দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন।
ডিজিটাল লক কী?
ডিজিটাল লক (বা স্মার্ট লক) হল এমন একটি আধুনিক ইলেকট্রনিক লকিং সিস্টেম। এতে চাবির পরিবর্তে পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আরএফআইডি (RFID) কার্ড বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। কেউ জোর করে দরজা খোলার চেষ্টা করলে বা ভুল পাসওয়ার্ড দিলে অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
ডিজিটাল লক সাধারণ বড় কোনও অফিসে থাকে। প্রশ্ন উঠছে, কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কেন ডিজিটাল লকের প্রয়োজন? অভিযোগ উঠেছে, এখানে সেবাশ্রয়ের নানা নথি লুকানো রয়েছে। জমি দখল, মাটি কারবারের নানা নথি লুকানো রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সেজন্যই কি ডিজিটাল লক ব্যবহার করা হত? গতকাল প্রশাসন অভিষেকের আমতলার এই কার্যালয় ভাঙার কাজ শুরু করতেই স্থানীয় বাসিন্দারা মুখ খুলতে শুরু করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, “খুব গোপনীয় জিনিসকে সুরক্ষিত রাখতেই এই ডিজিটাল লক ব্যবহার করা হত।” গতকাল ওই ভবন থেকে একাধিক ট্রাঙ্ক বের করে আনা হয়। সেগুলিতে কী রয়েছে, তা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা।
এদিকে, তাঁর কার্যালয় ভাঙা নিয়ে বিজেপি ও প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক। এই নিয়ে আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এই কার্যালয় নিয়ে জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।