
ডায়মন্ড হারবার: বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে সিআইডি-র একের পর এক সমন এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে আরও বিপাকে পড়লেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারেরই দায়ের হল এফআইআর। অভিষেক, জাহাঙ্গির খান-সহ ৪০ জনের বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। বিজেপি নেতার বক্তব্য, সাড়ে ৭ বছর আগে অভিষেকের নির্দেশে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। এবার পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে বলে তিনি আশাবাদী।
কী হয়েছিল সাড়ে ৭ বছর আগে?
২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর। ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাট মোড়ে দলীয় কর্মসূচিতে এসে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিজিৎ দাস। সেইসময় বিজেপির জেলা সভাপতি ছিলেন তিনি। কোমর থেকে পা পর্যন্ত গুরুতর জখম হয়েছিল। এমনকি মারের আঘাতে বিজেপি এই নেতার শিরদাঁড়ায় চিড় হয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও মাথাতে আঘাত করে পরিকল্পনা করেই খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সিএমআরআই হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিজিৎ দাস। পরে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর মঙ্গলবার সন্ধেয় ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতা সহ ৪১ জন এবং আরও প্রায় দেড়শো জনের বেশি অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানালেন তিনি।
অভিযোগকারী বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস
অভিযোগ দায়ের করে কী বললেন অভিজিৎ দাস?
সাড়ে ৭ বছর আগের সেদিনের ঘটনার কথা জানিয়ে অভিজিৎ দাস বলেন, “আমি ৪৪ মিনিট আগে খবর পেয়েছিলাম যে আমার উপর হামলা হতে পারে। পুলিশকে জানাই। কিছু করেনি। আমি পালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু, আমি পলাতক নই। আমি তখন জেলা সভাপতি। আমি পালিয়ে গেলে এখানে সংগঠনটা থাকত না। ওরা এটাই চেয়েছিল। আমাকে তো আধমরা করে ফেলে রেখেছিল। আমার মেরুদণ্ডে চিড় রয়েছে।”
এতদিন পর কেন ফের পুলিশের দ্বারস্থ হলেন? প্রশ্ন শুনেই ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অভিজিৎ বলেন, “তখন তো ডায়মন্ড পুলিশ অভিষেকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাই কিছু করেনি। যারা আমার উপর হামলা চালিয়েছিল, ছাড়া পাবে না। এরা গ্রেফতার হবে। এদের ছাড়া উচিত নয়।” প্রসঙ্গত, অভিজিতের অভিযোগপত্রে নাম থাকা জাহাঙ্গিরকে অন্য মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিষেক-সহ বাকিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।