
ক্যানিং: ভোট পরবর্তী হিংসায় যুক্ত থাকা-সহ একাধিক অভিযোগ। শুক্রবার বিকেলে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের বাড়িতে হানা দিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিধায়ককে অবশ্য বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অন্য চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে বাঁচাতে বিধায়ক গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে কটাক্ষ করল বিজেপি।
পরেশরাম দাস মমতা-পন্থী তৃণমূল বিধায়ক। এদিন বিকেল চারটে নাগাদ বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনীশ বিশ্বাস এবং ক্যানিং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) মোত্তাকিনুর রহমানের নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী বিধায়কের বাড়ি ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি। বিধায়ককে না পাওয়া গেলেও তাঁর বাড়ি থেকে দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়তের প্রধান শিলাদিত্য রায়-সহ মোট চারজনকে প্রথমে আটক করে পুলিশ। তারপর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ভোট পরবর্তী হিংসায় যুক্ত থাকা, সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার এবং তোলাবাজির মতো বিষয়। এছাড়াও, ২০২৪ সালে ক্যানিং থানায় ঢুকে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালানো এবং লকআপ থেকে অভিযুক্তদের জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পিছনেও এই চারজনের সরাসরি হাত ছিল বলে পুলিশের দাবি।
বিধায়কের বাড়িতে কেন তল্লাশি?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়কের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসায় যুক্ত থাকা, পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা করতে না দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকী, তৃণমূল এই বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণেরও অভিযোগ রয়েছে। সেইসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়েও তাঁর দেখা না পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। BJP-র দাবি, পুলিশের গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচতেই বিধায়ক আগেভাগে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। তবে এভাবে পালিয়ে আইনের হাত থেকে বিধায়ক নিজেকে বাঁচাতে পারবেন না বলে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য।