
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘বড় চোর’ জেলে যাবেই। বারুইপুর থেকে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বড় চোর জেলে যাবেই, চিন্তা করবেন না। ধৈর্য রাখুন।” মমতা ঘনিষ্ঠ একের পর এক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। অতি সম্প্রতি সেই তালিকায় সংযোজিত হয়েছে ইন্দ্রনীল সেন ও অজিত মাহাতোর নাম। দুর্নীতির একাধিক দায় তাঁদের মাথায়। শুক্রবারও বারুইপুরের সভা থেকে মমতা-অভিষেককে খোঁচা দিতে গিয়ে নাম না উল্লেখ না করেই সভায় উপস্থিত বাকিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে বড় চোর কবে যাবে? বড় চোর যাবে। আমার রাজনীতিতে সহ্য, ধৈর্য ধরি।”
বাম-তৃণমূল আঁতাতকেও এক যোগে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সিপিএম আর মমতা-তৃণমূল এখন এক হয়ে গিয়েছে। তাঁর খোঁচা, ‘বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন।’ তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন, “সাহস থাকলে আপনি লড়ুন। আবার হারাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।” তাঁর কটাক্ষ, “ওঁরা কলকাতায় না থেকে দিল্লি যাচ্ছেন। আপনি দিল্লি যান। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু হবে না।”
উল্লেখ্য, দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যু এবং পরবর্তী কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের একাংশের মধ্যে সমাপতিত অবস্থান লক্ষ্য করা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, রাজ্যের আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে অন্ধকারে রেখে জাতীয় স্তরে বা দিল্লিতে কেরলের সিপিএম নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্বের একাংশের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই এম বেবির সঙ্গে মমতার চা খাওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “হেরেই পঞ্চাত্ব প্রাপ্তি একটা দলের।”
এদিন আবারও নাম না করে অভিষেককে ‘ডিজে’ ইস্যুতে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেক বলেন, “গোটা জেলায় গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছ। ২০১৪ সালের পর থেকে একটাও ভোট করতে দাওনি। ৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন উনি। কিন্তু ৬ মাস কোথায়?” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ইস্যুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্তাদের বিরুদ্ধেও। উত্তর দিতে গিয়ে এদিনের সভা থেকে নাম না করেই ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী।