
স্যাক্রামেন্টো: ফের বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল আইআইটি খড়গপুরের নাম (IIT Kharagpur)। বিশ্ব সেরার তালিকায় প্রথম তিনে জায়গা করে নিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজ্যের আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় ঠাঁই পেল সেরার তালিকায়। সবসময় আন্দোলন-বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে সেরা দশে। সম্প্রতি, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ডস টপ ২% সায়েন্টিস্টস’ (World’s Top 2% Scientists list)) তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা করে নিলেন খড়গপুর আইআইটি-র ৯৭ জন গবেষক। আর এই তালিকায় রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ জন গবেষক।
তবে, দেশের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবেষক রয়েছেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের (IISc)। প্রতিষ্ঠানটির ১৩৯ জন গবেষক জায়গা পেয়েছেন বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায়। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইআইটি দিল্লি। সেখানকার ১১৪ জন গবেষক জায়গা করে নিয়েছেন।
এরপর রয়েছে আইআইটি খড়্গপুর। এই প্রতিষ্ঠানের ৯৭ জন গবেষক তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। আইআইটি মাদ্রাজের ৮১ জন এবং আইআইটি বম্বের ৭৩ জন গবেষক রয়েছেন তালিকায়। অন্যদিকে, আইআইটি রুরকির ৬২ জন এবং আইআইটি কানপুরের ৫৫ জন গবেষকও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।
স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ারের ২০২৬ সালের তালিকাটি মূলত গবেষকদের গোটা কর্মজীবনের গবেষণার প্রভাবের নিরিখে মূল্যায়ণ করা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই তালিকায় দেশের একাধিক নামী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে যাদবপুর। যেখানে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন এবং আইআইটি গুয়াহাটির ৩৭ জন এমনকী, দেশের প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের ৪০ জন গবেষক এই তালিকায় রয়েছেন, সেখানে যাদবপুরের গবেষকের সংখ্যা ৪৮। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরে এই সাফল্য যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ।
২০২৬ সালের এই তালিকায় ভারতের মোট ১,১৮৫টি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ৩,৮৯৮ জন গবেষক জায়গা পেয়েছেন। শুধু আইআইটি কিংবা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় রয়েছে।
কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের (ISI) ২৪ জন গবেষকও জায়গা পেয়েছেন। অন্যদিকে, ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ৩৫ জন, বিটস পিলানির ২৪ জন এবং অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন গবেষক তালিকায় রয়েছেন।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের তৈরি এই তালিকা প্রকাশ করে এলসেভিয়ার। গবেষকদের কাজের আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়নের জন্য স্কোপাস (Scopus) ডেটাবেসের তথ্য ব্যবহার করা হয়। মূলত গবেষণাপত্র কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, গবেষকের এইচ-ইনডেক্স, যৌথ গবেষণায় অবদান এবং গবেষণাপত্রে লেখক হিসেবে অবস্থান-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়।
মোট ২২টি প্রধান বিজ্ঞান বিভাগ এবং ১৭৪টি উপবিভাগের ভিত্তিতে গবেষকদের মূল্যায়ন করা হয়। এক্ষেত্রে দুটি পৃথক তালিকা প্রকাশ করা হয়। একটি গবেষকদের গোটা কর্মজীবনের গবেষণার প্রভাবের ভিত্তিতে এবং অন্যটি নির্দিষ্ট এক বছরের গবেষণার প্রভাবের ভিত্তিতে।