
ঝাড়গ্রাম: সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা। অজিত মাহাতোকে গ্রেফতার করল ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করেছে পুলিশ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে গোপীবল্লভপুর থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন অজিত মাহাতো। মূলত এলাকায় জমি মাফিয়া হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
জানা গিয়েছে, বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বেকার যুবকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছিলেন ঝাড়গ্রামের এক তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো। এরপরে ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা সজল দাস (২৪) ঝাড়গ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত অজিত মাহাতো নিজের রাজনৈতিক প্রভাব এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার দাবি করে অভিযোগকারী যুবককে বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে অভিযোগকারী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে চার দফায় মোট ১০ লক্ষ টাকা অভিযুক্তকে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও ওই তৃণমূল নেতা চাকরির ব্যবস্থা করেননি। এবং টাকা ফেরতও দেননি বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা ফেরত চাইতে গেলে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং অতিরিক্ত আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করেন।
শুধু তাই নয়, অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন, একই কায়দায় সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বেকার যুবকের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাড়গ্রাম থানায় গত ২৯ তারিখ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(২)/৩১৮(৪)/৩০৮(৫)/৩৫১(৩)/১১১(৩)/৬১(২) ধারায় রুজু করা হয়েছে।
মামলার তদন্তে নেমে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ গত রাতে অভিযুক্ত অজিত মাহাতোকে গ্রেফতার করে। রাত আড়াইটে নাগাদ তাঁর বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হবে, এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর।
মূলত অর্থ লেনদেনের প্রকৃত তথ্য, প্রতারণার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, একইভাবে আরও কতজন যুবক প্রতারিত হয়েছেন এবং আত্মসাৎ করা অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।