
কলকাতা : ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল করল নির্বান কমিশন। এক ধাক্কায় ১৪৯ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হল। তালিকায় রয়েছেন ইন্সপেক্টর ও সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকরা। কমিশনের তরফে তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, এই পুলিশ আধিকারিকরা ভোটের কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। ভোটের মুখে ফের রদবদলের ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে।
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ব্যাপক রদবদল হয়। বদলি করা হয়েছে একাধিক জেলাশাসক, ডিইও, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের। সিনিয়র অফিসারদের ভোটের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে অন্য় রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই রদবদলকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে তৃণমূল। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রদবদলের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে কমিশনকে চিঠিও দিয়েছে তৃণমূল। এমনকী, প্রশাসনিক রদবদলের ইস্যু হাইকোর্ট পর্যন্ত চলে গিয়েছে। সম্প্রতি, রদবদল নিয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেছেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটের আর বেশিদিন বাকি নেই। তার মধ্যে রদবদল অব্যাহত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে কমিশনের তরফে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪৯ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৮১ জন ইন্সপেক্টর। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁদের নতুন পদে দায়িত্ব নিতে হবে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই অফিসাররা ভোটের কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে না। এই বিষয়ে তাঁদের মুচলেকা দিতেও বলা হয়েছে।
এছাড়া ৬৮ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৯ মার্চ ১৫০ জন ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জন এসআই বিভিন্ন থানায় কাজ করছেন। সেই ৪৯ জন যে জেলায় কর্মরত, সেখান থেকে তাঁদের অন্য জেলায় সরিয়ে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে এবার দুই দফায় ভোট রয়েছে। প্রথম দফার ভোট রয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের মনোনয় জমার পর্ব শেষ হয়েছে। হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। তার মধ্যেই জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে সব রাজনৈতিক দলগুলি। তবে, ভোটের মুখে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিবাদ চরমে পৌঁছছে। সম্প্রতি, বাদ পড়া ভোটারদের ভোটাধিকারের দাবি জানিয়ে কমিশনে যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। কিন্তু, সেখান থেকে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ডেরেকরা। পাল্টা অভিযোগ তোলা হয় কমিশনের তরফেও।