
নয়াদিল্লি : হাতে মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা। প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমার শেষ দিন আজই। কিন্তু,রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ মোত্তাকিন আলম আদৌ মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভোটার তালিকায় নামই ওঠেনি তাঁর। ট্রাইব্যুনালে আটকে রয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীর নাম। তিনি শুধু কংগ্রেস প্রার্থী নন, প্রাক্তন বিধায়কও। এদিকে, তাঁর নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমার আগে তাঁর নামের নিষ্পত্তি হবে কিনা তাও অনিশ্চিত। এই ইস্যুতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মোত্তাকিন আলম। দুপুর ১২টার মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে মোত্তাকিনের আবেদনের নিষ্পত্তি করা নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কমিশনের তরফে আলোচনা করা হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু।
গত শুক্রবার অ্যাডজুডিকেশন তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কথা জানতে পারেন মোত্তাকিন। তারপর তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদনও করেন। কিন্তু, ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করেনি এখনও পর্যন্ত। এদিকে, প্রথম দফার নির্বাচনের তালিকাতেই রয়েছে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের নাম। প্রথম দফার ভোট রয়েছে ২৩ এপ্রিল। তার আগে আজ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন। দুপুর তিনটের মধ্যে প্রথম দফার সব প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে হবে। কিন্তু, ট্রাইব্যুনালে নাম নিষ্পত্তি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস প্রার্থী। সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করেছেন মোত্তাকিন। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ এই বিষয়টি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এজলাসে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তারপরই ১২টার মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে আদৌ কি ভোটে লড়তে পারবেন মোত্তাকিন? সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলায় বারবার নির্দেশ দিয়েছেন প্রার্থীদের নাম বিচারাধীনে থাকলে, তাঁদের নিষ্পত্তি আগে করে দিতে হবে জুডিশিয়াল অফিসারদের। নিষ্পত্তির পর অফিসাররা জানিয়েছেন, তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। কিন্তু, মোত্তাকিন শুধু প্রার্থী নন। এর আগে তিনি কালিয়াচকের বিধায়ক ছিলেন। সেক্ষেত্রে তাঁর ভোটাধিকার কীভাবে না থাকে, ভোটাধিকারের জন্য কীভাবে প্রয়োজনীর কাগজপত্র না থাকে, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মনোনয়ন জন্য তৈরি হয়ে আছেন মোস্তাকিম। নাম তালিকায় উঠলেই মনোনয়ন জমা দেবেন। শেষপর্যন্ত একইসঙ্গে দুপুর তিনটের আগে তিনি মনোনয়ন জমা দিতে পারেন কিনা, সেদিকে নজর থাকবে।