
কলকাতা : বিজেপি সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশন। আর প্রথম দিনই সরব তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) অভিযোগ তুলে বিধানসভায় আওয়াজ তুললেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovondeb Chatterjee)। তাঁর অভিযোগ, ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে বহু তৃণমূল কর্মী ঘর-ছাড়া রয়েছেন। বিজেপি আসার পর ভরসা আউট হয়েছে। বরং ভয় বেড়েছে। যদিও শোভনদেবের তোলা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বরং ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে শোভনদেবের তোলা সব অভিযোগের স্পষ্ট উত্তর দিলেন শুভেন্দু। একইসঙ্গে তাঁর আশ্বাস, যদি সত্যি কেউ ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে সসম্মানে বাড়ি ফেরাবে বিজেপি সরকার। কিন্তু, বেঁধে দিলেন শর্তও।
আজ বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন ছিল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার হয়েছেন রথীন্দ্র বসু (Rathindra Basu)। স্পিকার নির্বাচনের পরই অধিবেশন বসে বিধানসভায়। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তৃতা রাখেন। ধন্যবাদ জানান প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলকে। একইসঙ্গে, পুরনো তিক্ততা, ভুল-ত্রুটি ভুলে বহুদলীয় গণতন্ত্র মেনে বিধানসভা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। শুভেন্দুর পরই বিধানসভায় বক্তৃতা রাখেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তৃতার শুরু থেকেই কটাক্ষের সুর।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচনকে বলি গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু, সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ছে বারবার। বিজেপি বলেছিল, ভয় নয় ভরসা আসবে। কিন্তু, ভরসা নেই, বরং উল্টে ভয় চারগুণ বেড়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, যাতে মানুষ বাড়ি ফিরতে পারেন।” শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, “তিনি যেন স্বৈরাচারী পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। আমি চাই না গণতন্ত্র ধ্বংস হবে। আর গণতন্ত্র যদি ধ্বংস হয়, আর স্বৈরাচারী প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে মানুষ এর উত্তর দেবে।”
বিরোধী দলনেতার বক্তৃতার মাঝেই উত্তাল হয় বিধানসভা। চিৎকার করছিলেন বিজেপি বিধায়করা। কিন্তু, শুভেন্দু অধিকারী নিজে দলীয় বিধায়কদের থামান। বলেন, ‘সংবিধানে বাক স্বাধীনতা রয়েছে। বলতে দিন। সরকার সময় মতো উত্তর দেবে।” শোভনদেবের বক্তৃতার মাঝে একবারও কোনও কথা বলেননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর তাঁর তোলা অভিযোগের উত্তরও দিলেন।
শোভনদেবের অভিযোগ উড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “ঘর ছাড়া কেউ আছে বলে আমার জানা নেই। আপনি জানলে প্রশাসনকে জানাবেন। যদি কেউ ঘরছাড়া থাকে, আপনি মাননীয় ডিজিপির তালিকা দেবেন। শর্ত একটাই। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২১ সালে নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের কোনও অভিযোগ যেন না থাকে। আপনি তালিকা দেবেন, ওই তালিকায় যদি সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব থাকেন, তাহলে তাঁকে সসম্মানে এলাকার বিজেপি বিধায়ক ও এসপি গিয়ে বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়ে আসবে। আর অভিযোগে যদি নাম থাকে, তাহলে তাঁকে জেলে যেতে হবে।”
১৮ জুন বিধানসভা অধিবেশন রয়েছে। ওইদিন বাজেট অধিবেশন হবে। সকালে সাড়ে এগারোটায় রাজ্যপাল আর এন রবি ভাষণ দেবেন বিধানসভায়।