Pak Man Arrested For Plot To Kill Trump: পাক নাগরিকের টিমে গোপনে যোগ দেয় FBI, খুনের ছক কষেও ‘হাতছাড়া’ আসিফের
Pak Man Arrested For Plot To Kill Trump: আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ইরানের মেজর জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার বদলা নিতে ইরান মার্কিন আধিকারিকদের উপর হামলার ছক কষে আসছে। আর তাদের সেই ছক ভেস্তে দিতে সজাগ মার্কিন বিচার বিভাগ। ২০২০ সালে বাগদাদে ইরানের মেজর জেনারেলকে নিকেশের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফলে অনুমান করা হচ্ছে, ট্রাম্পকেই টার্গেট করেছিল আসিফ মার্চেন্ট।

নিউইয়র্ক: এ যেন গোয়েন্দা গল্প। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হাই প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে খুনের ছক। প্রত্যেকের জন্য আলাদা কোড নেম। খুন এমনভাবে হবে, যাতে মনে হবে রাজনৈতিক হিংসা। বাস্তবে এমনই ছকের কথা ফাঁস করল ফেডেরাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(FBI)। আসিফ মার্চেন্ট নামে এক পাকিস্তানের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুনের ছক কষা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ট্রাম্পের নাম না নিয়েই একথা জানিয়েছেন আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনেরাল মেরিক গারলেন্ড।
আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ইরানের মেজর জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার বদলা নিতে ইরান মার্কিন আধিকারিকদের উপর হামলার ছক কষে আসছে। আর তাদের সেই ছক ভেস্তে দিতে সজাগ মার্কিন বিচার বিভাগ। ২০২০ সালে বাগদাদে ইরানের মেজর জেনারেলকে নিকেশের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফলে অনুমান করা হচ্ছে, ট্রাম্পকেই টার্গেট করেছিল আসিফ।
কী ছক কষেছিল ধৃত আসিফ?
FBI প্রধান ক্রিস্টোফার রে জানিয়েছেন, ধৃত আসিফ পাকিস্তানের নাগরিক হলেও ইরানের সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে। বছর ছেচল্লিশের আসিফ জিজ্ঞাসাবাদের সময় আধিকারিকদের জানিয়েছে, তাঁর দুই স্ত্রী। একজন পাকিস্তানে থাকেন। এবং অন্যজন ইরানে। দুই দেশেই তাঁর সন্তান রয়েছে।
গত ১২ জুলাই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেইসময় সে বিমান ধরে আমেরিকা ছাড়ার চেষ্টা করছিল। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তান থেকে আমেরিকা আসে আসিফ। তার আগে কিছুদিন ইরানে কাটিয়ে পাকিস্তানে এসেছিল সে। ব্রুকলিনে ফেডেরাল আদালতে আসিফের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেখানে আসিফের ছকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যে বাড়িকে টার্গেট করা হবে, সেখান থেকে নথি কিংবা USB ড্রাইভ চুরি করা। রাজনৈতিক বিক্ষোভ এবং সরকারি অফিসার কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে খুন করা। এই ছিল আসিফের ছক। এর সঙ্গে যুক্তদের কোড নেমও রেখেছিল সে।
FBI জানিয়েছে, এই সব কাজের জন্য প্রথমে সে একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই ব্যক্তি পুলিশকে সব জানান এবং পুলিশের গোপন সোর্স হিসেবে আসিফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। জুনের মাঝামাঝি আসিফ যাঁদের সঙ্গে দেখা করেন, তাঁরা সবাই FBI অফিসার ছিলেন। কিন্তু, আসিফ তা বুঝতে পারেনি। সে সবাইকে জানায়, কিছু নথি চুরি করতে চায়। এবং রাজনৈতিক সভায় বিক্ষোভ দেখিয়ে এক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে খুন করতে চায়। অফিসারদের আসিফ জানায়, সে আমেরিকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অগস্টের শেষ সপ্তাহ কিংবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ওই রাজনৈতিক ব্যক্তিকে খুন করতে হবে। তখনই সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম সে জানাবে বলে অফিসারদের জানিয়েছিল। বিদেশ থেকে ৫০০০ ডলার পেয়েছিল আসিফ। এবং এজেন্টদেরও দিয়েছিল। আসিফ ঘুণাক্ষরে বুঝতে পারেনি, যাঁদের সে নিয়োগ করছে, তাঁরাই আন্ডার কভার অফিসার।
গত ১৩ জুলাই পেনসিলভেনিয়ায় প্রচারে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সভা চলাকালীন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক যুবক। সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে নিহত হয় হামলাকারী যুবক। পরে ট্রাম্প জানান, একটি গুলি তাঁর কান ছুঁয়ে চলে গিয়েছে। তবে সেই হামলার সঙ্গে এই পরিকল্পনার কোনও যোগ সূত্র নেই বলে জানা গিয়েছে।
আমেরিকায় রাজনৈতিক হিংসা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। গত সপ্তাহেই ভার্জিনিয়াতে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসকে খুনের হুমকি দিয়েছিলেন। আর এই রাজনৈতিক হিংসাকে আসিফ কাজে লাগাতে চাইছিল বলে FBI মনে করছে।
