
ঢাকা: শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন, তখন সামনে এসেছিল এক বাংলাদেশি এয়ারফোর্স অফিসারের নাম। গাড়ি থেকে নেমে বায়ুসেনার বিমানে ওঠার যে ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল, লাখ লাখ মানুষ যে ভিডিয়ো দেখেছিলেন, সেই ভিডিয়ো নাকি করেছিলেন ওই বায়ুসেনার অফিসার। এরপরে পদ্মা নদীতে জল অনেক গড়িয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ভারতে থাকার পর বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ ফেরার কথা হাসিনার। ঠিক তার আগেই বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের প্রাক্তন অফিসারের দেহ উদ্ধারকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গতকাল, ২৮ অক্টোবর ঢাকার তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় ২৮ বছর বয়সী ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তৌসিফ সৌরির দেহ। একদিন আগেই তিনি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। এরপরই নদী থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঢাকার রাজাবাড়ি ঘাট থেকে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পরনে ট্রাউজার ও কালো রঙের শার্ট ছিল। পকেটে পাওয়া আইফোন থেকেই তাঁর পরিচয় জানা যায়।
পরিবারের দাবি, কোনও দুর্ঘটনা নয়, তাঁকে খুন করা হয়েছে। হাসিনার দেশ ছাড়ার ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর সৌরিকে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
সৌরিই হাসিনার দেশ ছাড়ার ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। এই ঘটনার পরই বেশ কয়েকজন বায়ুসেনার অফিসারকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তাদের বাধ্য করা হয় অবসর গ্রহণ করতে। সেই তালিকায় এই যুবকের নামও ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রাক্তন অফিসারের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। তারপরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এদিকে, প্রশাসনের তরফেও সৌরির মৃত্যু ও হাসিনার ওই ভিডিয়োর সঙ্গে যোগসূত্রের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
তবে সৌরির মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অন্যতম কারণ হল হাসিনার দেশে ফেরার ঠিক আগেই রহস্য়মৃত্যু। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আশ্রয় নেন ভারতে। সম্প্রতিই হাসিনা নিজেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। যা-ই শাস্তি হোক না কেন, ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশ ফিরে যাবেন।