
ঢাকা: বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি মুছে যাচ্ছে আওয়ামী লিগ (Awami League)? হাসিনা দেশ ছেড়েছেন প্রায় দুই বছর হল, অন্তর্বর্তী সরকার তারপরই আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। এবার আরও বড় পদক্ষেপের পথে বিএনপি সরকার। আওয়ামী লিগকে সম্পূর্ণভাবেই নিষিদ্ধ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে এবার আইনে পরিণত করতে চলেছে তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকার। ইতিমধ্যেই সংসদে বিল পাশ হয়ে গিয়েছে।
১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরেই যখন নির্বাচনে অংশ নেন তারেক রহমান, তখন তিনি বলেছিলেন যে তিনি কোনও দলকে নির্বাসনে পাঠানো সমর্থন করেন না। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছিলেন যে নীতিগতভাবে কোন দলকে নিষিদ্ধ করা, সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলেই তিনি মনে করেন। তবে ক্ষমতায় আসতেই যেন ‘ইউ টার্ন’। ইউনূসের আনা অধ্য়াদেশকে আইনে পরিণত করার পথে তারেক জিয়ার সরকার।
একদিকে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরে এসেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছেন। সেই সময়ই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করা হল। ইউনূস আমলেই এই অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল। নিষিদ্ধ করা হয়েছিল আওয়ামী লিগ ও ছাত্র লীগকে। সেই কারণে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশের প্রাক্তন শাসক দল।
জানা গিয়েছে, বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে এবং তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে পেশ করে। বুধবারই সেই বিল পাস হয়েছে। অধ্যাদেশে আর কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ ও তার নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনও দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। তখন বলা ছিল, কোনও ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাস কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী এনে সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয়। এটিকে এবার আইনের রূপ দিতে জাতীয় সংসদে বিল পাস করা হল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পেশ করেন। ধ্বনিভোটে বিল পাস করা হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, “এটি অবশ্যই একটি স্পর্শকাতর আইন। আইনটি পাসের জন্য তাঁদের আরেকটু সময় দেওয়া হোক।”
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে গ্রাহ্য করতে পারতেন। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই।”
এই বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাস কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। তাদের সমর্থনে কোনও প্রেস বিবৃতি, অনলাইন, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনও মাধ্যমে প্রচার বা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সাংবাদিক সম্মেলন করা যাবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে জারি করা হয়েছিল ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। আওয়ামী লিগের অফিস খোলা, রাজনৈতিক কাজ, বিজ্ঞপ্তি দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। এনসিপি, জামাত-ই-ইসলামি সহ একাধিক দল এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি নেতা তারেক রহমানই বলেছিলেন যে তিনি কোনও দলকে নির্বাসনে পাঠানো সমর্থন করেন না।
বাংলাদেশে নির্বাচনে আওয়ামী লিগের সমর্থকদের একটা বড় অংশ বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল এই কথাতে ভরসা করেই। তবে ক্ষমতায় আনার দেড় মাসের মধ্যেই এই ‘ইউ টার্ন’কে বিশ্বাসঘাতকতা বলেই দেখছে বাংলাদেশের জনগণের একাংশ। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবার বলছেন, এত সহজে কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না।