
ঢাকা: যিনি দেশের জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন, সেই বিশ্বকবিকেই অপমান। বাংলাদেশে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নীচে রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট। ফল হাতেনাতে পেলেন ছাত্রদলের নেতা। সংগঠনের সমস্ত পদ থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে হাসিবুল ইসলাম মারুফ নামক ওই নেতাকে।
বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপির শাখা ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের তরফে ওই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে । জানানো হয়েছে, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি দিয়েও এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বহিষ্কৃত হাসিবুল ইসলাম মারুফ নোয়াখালীর বাঁধেরহাট আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি। গত রবিবার, ১১ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে নিজের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন মারুফ। সাধারণ মানুষের নজরে বিষয়টি আসতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই ছাত্রদল মঙ্গলবার তাঁকে বহিষ্কার করে দেয়।
এদিকে, দলের সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরই জেলা ছাত্রদলকে ‘ভারতীয় দালাল দল’ বলে ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট করেন হাসিবুল ইসলাম মারুফ। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি করলে বহিষ্কার হতাম না, অনৈতিক কাজ করলে বহিষ্কার হতাম না, নেশাগ্রস্ত হলে বহিষ্কার হতাম না। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করায়, রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করে পোস্ট করায় আমাকে বহিষ্কার করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল।”
নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ায় মারুফকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশ দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকে ছাত্রদলকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই বাংলাদেশের সেগুনবাগিচায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ম্যুরালে কালি লাগানো হয়। এই নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হতেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই ঘটনার সমালোচনা করেছিলেন, কিন্তু একের পর এক ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে যে গোটা বিশ্বে যিনি বন্দিত, যিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্ট্রা, তাঁকে অবমাননা করার পরও কেন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে না? এই প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াকিবহাল মহল।