
ঢাকা: ওসমান হাদি(Osman Hadi)-র মৃত্যুতে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ (Bangladesh)। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় শুক্রবার। হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের ঢাকার শাহবাগ সহ একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষিপ্ত জনতা ভাঙচুর শুরু করে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি। আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচনে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসাবেও লড়তেন। প্রচারও করছিলেন, কিন্তু সেই লড়াই করা হল না। তার আগেই জীবনযুদ্ধে হার মেনে নিলেন হাদি। তরুণ নেতার মৃত্যুতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা করেছেন।
আজ, শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে দুপুর ৩টে ৫০ মিনিটে ওসমান হাদির মরদেহ আনা হবে।সন্ধে ৬টায় বাংলাদেশে পৌঁছবে ওসমান হাদির মৃতদেহ। ঢাকায় শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তাঁর জানাজা হবে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
এদিকে, ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসার পরই আগুন জ্বলতে থাকে বাংলাদেশে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের মতো প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় ক্ষিপ্ত জনতা। ভিতরেই আটকে পড়েন সংবাদকর্মীরা। প্রতিবাদের মুখে নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিল পুলিশ। শেষে দমকলকর্মীরা এসে আগুন নেভায় এবং ভিতরে আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধার করে।
শুধু সংবাদমাধ্যমের অফিসই নয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি, ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনেও ভাঙচুর করে। আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। রাজশাহীতে আওয়ামী লিগের অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় উন্মুত্ত জনতার। বান্দারবনে আওয়ামী লিগের নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চলে। চট্টগ্রাম, রাজশাহীতেও অশান্তি, হামলার খবর সামনে এসেছে।
হামলার কারণে আজ, শুক্রবার প্রকাশ হবে না প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা। অনলাইন ওয়েবসাইটও প্রায় বন্ধ।
ভারতের উপরও রোষ আছড়ে পড়েছে কট্টরপন্থীদের। গতকাল রাতেই ভারতীয় সহকারী-হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে জড়ো হয় অনেকে। হাইকমিশনের দিকে ইটপাটকেল ছোড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।