Brazil President Election: ৮০ বছরে ইতিহাস! ট্রাম্পের মুখে ঝামা ঘষে ব্রাজিলে চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বামপন্থী লুলা

Luiz Inacio Lula da Silva: নির্বাচনী প্রচারে লুলা তাঁর সরকারের দারিদ্র্য দূরীকরণ, আর্থিক বৈষম্য কমানো, বেকারত্ব হ্রাস, নিরক্ষরতা মোকাবিলা এবং বনাঞ্চল ধ্বংস রোখার উদ্যোগগুলিকে তুলে ধরেন। তিনি প্রচারে  বলেছিলেন যে বলসোনারো ক্ষমতায় ফিরলে সামাজিক সুরক্ষা খাতে খরচ কমতে পারে।

Brazil President Election: ৮০ বছরে ইতিহাস! ট্রাম্পের মুখে ঝামা ঘষে ব্রাজিলে চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বামপন্থী লুলা
ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা দ্য সিলভা।Image Credit source: PTI

|

Oct 26, 2026 | 7:25 AM

ব্রাসিলিয়া: ৮০ বছরে গড়লেন ইতিহাস। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের জয়ী হলেন লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা (Luiz Inacio Lula da Silva)। রবিবারের নির্বাচনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জ়াইর বলসোনারোর বড় ছেলে তথা সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে নজির গড়লেন ৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা। এই জয়ের ফলে চতুর্থবারের জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন লুলা। জনমত সমীক্ষাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে তাঁর এই বিপুল জয় এল। লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশে যখন দক্ষিণপন্থী রাজনীতির প্রভাব বাড়ছে, তখন লুলার জয় সেই বামপন্থীদের নতুন করে শক্তি জোগাল।

২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটানা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন লুলা। এরপর ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে ফের ক্ষমতায় ফেরেন তিনি। তবে এবারের নির্বাচনে তাঁর জয় খুব একটা সহজ ছিল না। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি, অতীতের দুর্নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সরকারের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

অন্যদিকে, প্রথম দফার নির্বাচনে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। বাবার দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। তবে ভোটদানের হার প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লুলার জয় নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করছেন নির্বাচনী বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনিশ্চিত বিকল্পের বদলে পরিচিত নেতৃত্বের উপরই ভরসা রেখেছেন ভোটারদের একাংশ। সেই কারণেই ফের জয় হল লুলার।

দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতিতে জোর-

নির্বাচনী প্রচারে লুলা তাঁর সরকারের দারিদ্র্য দূরীকরণ, আর্থিক বৈষম্য কমানো, বেকারত্ব হ্রাস, নিরক্ষরতা মোকাবিলা এবং বনাঞ্চল ধ্বংস রোখার উদ্যোগগুলিকে তুলে ধরেন। তিনি প্রচারে  বলেছিলেন যে বলসোনারো ক্ষমতায় ফিরলে সামাজিক সুরক্ষা খাতে খরচ কমতে পারে।

এছাড়াও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকার উপর ব্রাজিলের নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন লুলা।

তাঁর এই জয় আমেরিকার প্রশাসনের কাছেও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন বলসোনারো পরিবারের ক্ষমতায় ফেরার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। লুলার জয়ের ফলে লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলা দক্ষিণপন্থী সরকারগুলির জোটে আরও একটি বড় দেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ধাক্কা খেল।

বারবার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন লুলার-

লুলার রাজনৈতিক জীবন বারবার প্রত্যাবর্তনের নজিরে ভরা। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটানা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন লুলা। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে জেলে থাকতে হয়েছিল। পরে সেই সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ বাতিল হওয়ায় তিনি আবার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পান। ২০২২ সালে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে ফেরেন তিনি।

এবারের জয় আরও একটি কারণে উল্লেখযোগ্য। ব্রাজিলে ১৯৮০-র দশকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথম দফার ভোটে দ্বিতীয় স্থানে থেকেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়া প্রথম প্রার্থী হলেন লুলা।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ-

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেলেও আগামিদিনে লুলাকে সংসদে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর লিবারেল পার্টি এবং তাদের সহযোগী দলগুলি নিম্নকক্ষে ২৮০টিরও বেশি আসন পেতে পারে। পাশাপাশি, সেনেটেও তাদের আসনসংখ্যা ৫০ পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদের দুই কক্ষেই দক্ষিণপন্থী শিবির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। ফলে নতুন করে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিজের নীতি ও পরিকল্পনা কার্যকর করতে সংসদে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করাই হবে লুলার সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us