
কলকাতা: ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’ কবি তো এ কথা সেই কবেই বলেছেন, কিন্তু তাই বলে কী আর অমরত্বের স্বাদ এত সহজে মেলে! কিন্তু, অমরত্বের অলীক স্বপ্ন দেখেন না এমন মানুষ মনে হয় হাতেগোনা। সে কারণেই হয়তো পৌরাণিক গল্পের প্রতি টান আজও অমোঘ। কিন্তু মাইকেল মধূসূদন তো লিখেই গিয়েছেন ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে, চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে? সোজা কথায় জীবন প্রবাহ যতই অনিশ্চিত হোক মৃত্যু কিন্তু নিশ্চিত! তার হাত থেকে রেহাই নেই কারও। সে কারণেই জীবনের ওপারে ঠিক কী আছে তা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। কিন্তু, মাত্র একটা ওষুধ খেলেই যদি অতিরিক্ত ২৫ বছর আরও বেশি বাঁচা যেত তাহলে কেমন হতো? শুনতে অবাক হলেও বিজ্ঞানীরা কিন্তু বলছেন এমনটা হতেই পারে। মৃত্যু আমাদের হাতে নেই এ কথা বলার দিন কী তবে শেষ?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অমরত্বের প্রত্যাশা আর অলীক নয়। তা সম্ভব এক বিস্ময়কর ওষুধের হাত ধরে। যাতে বেঁচে থাকার ধারণাটাই বদলে যেতে পারে। বেঁচে থাকার মেয়াদও আরও অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। চাঞ্চল্যকর আবিস্কারের দাবি একদল ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর। ধরা যাক কেউ হয়তো ৭৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতেন, কিন্তু এই ওষুধ খেলে তিনি প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারবেন। কিন্তু কীভাবে?
ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, শরীরে ইন্টারলিউকিন-১১ প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করবে এই ওষুধ। ২৫ বছর পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে আয়ু। পিছনে ঠেলে দেওয়া যাবে মৃত্যুকে। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য বিভাগ, ইম্পেরিয়াল কলেজ অফ লন্ডন ও ব্রিটিশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল যৌথভাবে এই গবেষণা চালিয়েছেন। তাতেই মিলেছে এই বিস্ময়কর তথ্য। এই গবেষণার পর তৈরি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কিছু ইঁদুরের উপর। যে ইঁদুরগুলি সাধারণত ২ বছর ৩ মাস বাঁচে, তাঁরাই এই ওষুধ খেয়ে ৩ বছর পর্যন্ত বাঁচছে বলে দাবি করা হয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে তা আরও অনেকটা বাড়তে পারে বলে মত গবেষকদের।