
তেহরান: কাটছে না জট। আমেরিকার নাগপাশ ছাড়িয়ে বের হতে পারল না চিনা জাহাজ। হরমুজ পেরিয়ে মঙ্গলবারই রওনা দিয়েছিল ওই ট্যাঙ্কার, কিন্তু আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা (US Blockade) এড়িয়ে তা আর এগোতে পারল না। আজ, বুধবার আবার ফিরে আসতে হল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)-তেই। তাহলে কি আবার জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেবে?
ইরানের বন্দরে জাহাজের প্রবেশ ও বেরনোয় নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে আমেরিকা। পাকিস্তানে ইরান-আমেরিকার শান্তি চুক্তি বৈঠক ব্যর্থ হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাফ জানান, বন্ধু বা শত্রু-কোনও দেশের জাহাজই ঢুকতে-বেরতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে চিনের জাহাজ রিচ স্টারি (Rich Starry) হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেরিয়ে এগোনো শুরু করেছিল। তবে তা আমেরিকার নজরদারি এড়াতে পারেনি। তাকে আবার হরমুজ প্রণালীতেই ফিরে আসতে হয়।
এক্স হ্যান্ডেলে ইউএস সেন্ট্রাল কম্যান্ড পোস্ট করে জানিয়েছে, “প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনও জাহাজ আমেরিকার অবরোধ বেষ্টনী পার করে এগোতে পারেনি”। আমেরিকার নির্দেশে ছয়টি জাহাজ আবার মুখ ঘুরিয়ে ইরানের বন্দরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার চিনের ওই ট্যাঙ্কার সহ অন্তত আটটি জাহাজ এই জলপথ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু মার্কিন রণতরী কোনও জাহাজকেই বের হতে দেয়নি। চাবাহার বন্দর থেকে দুটি তেলের ট্যাঙ্কার বের হচ্ছিল, তাদেরও আটকে দেয় মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ।
এদিকে, চিনের যে জাহাজটি হরমুজ প্রণালীতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে, সেই জাহাজ এবং তার মালিক সংস্থা সাংহাই শুয়ানরান শিপিং কোম্পানির উপরে আমেরিকা আগেই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য। এই জাহাজে করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হামরিয়াহ পোর্ট থেকে আড়াই লক্ষ ব্যারেল মেথানল আনা হচ্ছিল।
আমেরিকার এই ইরানের জলপথ অবরুদ্ধ করে দেওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। জাহাজ, তেল কোম্পানিগুলি আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানির সঙ্কট আরও দেখা দিতে পারে বলেই আশঙ্কা।