Supermarket Cyber Attack: দেশে-দেশে সাইবার অ্যাটাক, বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ফ্রিজারের তাপমাত্রা, নষ্ট হচ্ছে ফ্রোজেন খাবার, বন্ধ একের পর এক সুপার মার্কেট

Supermarket Freezer Hack: বেলজিয়ামের সুপারমার্কেট চেন ক্যারিফোরের (Carrefour) ৭০০টি দোকানের মধ্যে ১৫টিতে এই হামলার প্রভাব পড়েছে। সংস্থার মুখপাত্র মিচ ভার্গাউয়েন জানিয়েছেন, এটি সাইবার হামলা। । বেলজিয়ামের এক সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, এটি সাইবার হামলা। তাঁর দাবি, হ্যাকাররা ফ্রিজের ভিতরে থাকা ইভাপোরেটরগুলিকে ডিফ্রস্ট মোডে চালু করে দিয়েছিল। ফলে দ্রুত তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

Supermarket Cyber Attack: দেশে-দেশে সাইবার অ্যাটাক, বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ফ্রিজারের তাপমাত্রা, নষ্ট হচ্ছে ফ্রোজেন খাবার, বন্ধ একের পর এক সুপার মার্কেট
প্রতীকী ছবিImage Credit source: Meta AI

Nov 03, 2026 | 12:33 PM

লন্ডন: ইউরোপজুড়ে একের পর এক সুপারমার্কেটে সাইবার হামলার অভিযোগ। হ্যাকারদের নিশানায় এবার সুপারমার্কেটের (Super Market Cyber Attack) ফ্রিজ়ার। সাইবার হামলার জেরে আচমকাই ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ফলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বিপুল পরিমাণ মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য-সহ বিভিন্ন খাবার। সোমবার আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, এস্তোনিয়া ও ফিনল্যান্ডের একাধিক সুপারমার্কেটে এই ঘটনা ঘটেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে সুপারমার্কেটগুলি। এর আগে অক্টোবর মাসে ফ্রান্সের কয়েকশো সুপারমার্কেটে একই ধরনের সাইবার হামলার (Cyber Attack News) ঘটনা ঘটেছিল।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দূর থেকেই ফ্রিজের তাপমাত্রা বদলে দিচ্ছে হ্যাকাররা। একটা বোতাম টিপলেই তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে একের পর এক খাবার। কিন্তু কীভাবে দূর থেকে হ্যাকাররা ফ্রিজের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আয়ারল্যান্ডে ও সুইডেনে ‘হামলা’ 

আয়ারল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম সুপারমার্কেট চেন সুপারভ্যালুর (SuperValu) ২২৩টি দোকানের মধ্যে ১৩টি দোকানে এই সাইবার হামলার প্রভাব পড়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট একটি মডেলের যন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দোকানগুলি থেকে সমস্ত খাবার বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সুপারভ্যালুর মালিক সংস্থা মাসগ্রেভ (Musgrave) বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

সুইডেনেও একই ছবি। সেখানকার সুপারমার্কেট চেন ICA এবং Coop-এর একাধিক দোকানে ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। Coop-এর ছ’টি দোকান এই হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, ICA জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি দোকানে রাতের দিকে ফ্রিজারে সমস্যা দেখা দেয়। এর জেরে নষ্ট হয়ে যায় বহু খাবার।

স্টকহোমের ICA-র একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দোকানে পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। সেখানে ফ্রিজারের তাপমাত্রা বেড়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায় বলে খবর। দোকানের সেলস ম্যানেজার ইংলা ইংওয়াল জানিয়েছেন, রাত ২টো নাগাদ হামলা শুরু হয়। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। তাঁর কথায়, সমস্ত ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে সব খাবারই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, এস্তোনিয়াতেও সাইবার হামলা

বেলজিয়ামের সুপারমার্কেট চেন ক্যারিফোরের (Carrefour) ৭০০টি দোকানের মধ্যে ১৫টিতে এই হামলার প্রভাব পড়েছে। সংস্থার মুখপাত্র মিচ ভার্গাউয়েন জানিয়েছেন, এটি সাইবার হামলা। । বেলজিয়ামের এক সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, এটি সাইবার হামলা। তাঁর দাবি, হ্যাকাররা ফ্রিজের ভিতরে থাকা ইভাপোরেটরগুলিকে ডিফ্রস্ট মোডে চালু করে দিয়েছিল। ফলে দ্রুত তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

ফ্রান্সেও একই কায়দায় হামলা

উল্লেখ্য, তিন সপ্তাহ আগেই, গত ১২ অক্টোবর ফ্রান্সের কয়েকশো সুপারমার্কেটেও একই ধরনের সাইবার হামলা হয়েছিল। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের পুলিশ জানিয়েছিল, প্রায় ৭০০টি সুপারমার্কেটের কুলিং ইউনিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল হ্যাকাররা। কিছু ক্ষেত্রে ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ২৭ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হয়ে যায়। ফলে বিপুল পরিমাণ মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ফ্রিজড খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। কয়েকটি দোকানে তো আবার ফ্রিজার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে।

কেন সুপারমার্কেটগুলিকে নিশানা করছে হ্যাকাররা?

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার গবেষক টম হেগেলের মতে, সুপারমার্কেটগুলি হ্যাকারদের কাছে সহজ টার্গেট হয়ে উঠছে। কারণ, বড় সুপারমার্কেট চেনগুলিতে বিপুল সংখ্যক রেফ্রিজারেশন কন্ট্রোলার, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত যন্ত্র থাকে। এই সমস্ত ব্যবস্থার উপর সাইবার হামলা চালানো তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। তাঁর মতে, সুপারমার্কেটগুলির মুনাফার পরিমাণ এমনিতেই কম। তার উপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই ধরনের হামলার আর্থিক ক্ষতি দ্রুত বাড়ে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

সাইবার বিশেষজ্ঞ সাম্যজিৎ মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেন, “বড় যে ফ্রিজ, কোল্ড স্টোরগুলি থাকে, সেগুলি রিমোটের মাধ্যমে কন্ট্রোল করা হয়। এদের উদ্দেশ্য আলাদা হতে পারে। টেকনিক্যাল দিক থেকে বলতে গেলে রিমোট কন্ট্রোলের যে ওটি সিস্টেম আছে, এটাকে হ্যাক করার ফলে এই জিনিসগুলি ঘটছে। শুধু বিদেশে না, এই দেশেও বিভিন্ন জায়গায় ঘটনাগুলি ঘটে। ফ্রিজ, টিভি সবটাই রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে হয়। ফোন থেকে যদি এসি চালানো যায়, ফ্রিজ কেন বন্ধ করা যাবে না। এটাই হল উদ্দেশ্য। আসলে এটাই জানান দেওয়া যে, কোনও কিছুই সুরক্ষিত নয়। যে কোনও কিছুর দিকে হামলা করা সম্ভব।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us