
ওয়াশিংটন : ইরান-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি তো হল! কিন্তু, ভবিষ্যত কী? স্পষ্ট হচ্ছে না। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল হল পশ্চিম এশিয়ায়। হরমুজ় বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। লেবাননে ইজ়রায়েলের হামলার পরই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমেরিকায় পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে আরও সুর চড়াল আমেরকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এবার আমেরিকার প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, যতদিন না সমঝোতা চূড়ান্ত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ইরানের আশেপাশের অঞ্চলে আমেরিকার সেনা মোতায়েন থাকবে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, চুক্তি ভাঙা হলে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ করা হবে। বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন,”মার্কিন জাহাজ, যুদ্ধবিমান, সেনা সবই ইরানের চারপাশে মোতায়েন রয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত ‘বাস্তব চুক্তি’সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত স্থগিত করার লক্ষ্যে যে শর্তগুলি দেওয়া হয়েছে, তা যাতে মেনে চলা হয়, সেকারণেই সামরির বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “যদি কোনও কারণে তা না হয়, তাহলে তীব্র আক্রমণ শুরু হবে। যা আগে কেউ কখনও দেখেনি।” অর্থাৎ ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মার্কিন সেনা প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে ইরানে হামলা চালানো হবে।”
এদিকে, ইজ়রায়েলের হামলায় লেবাননে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তেহরানের দাবি, ইজ়রায়েল মাত্র ১০ মিনিটে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৮৩৭ জন। তারপর থেকেই বন্ধ হরমুজ়। জাহাজ মন্ত্রক সূত্রে খবর, বুধবার হরমুজ় প্রণালীতে কোনও জাহাজ চলাচল করেনি। এদিকে ট্রাম্পের নতুন দাবি, হরমুজ়ে জাহাজ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবে আমেরিকা। জাহাজগুলির নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরান সেনার সশস্ত ঘেরাটোপে রয়েছে হরমুজ় প্রণালী। সেক্ষেত্রে হরমুজ়ের কী ভবিষ্যত হতে চলেছে, তা নিয়ে আশঙ্কার সব মহল।