
ওয়াশিংটন : অনিশ্চয়তা। উদ্বেগ। আতঙ্ক। বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিটা ঠিক এরকমই। ইরান-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ আবহে ঘুম উড়েছে বাকি দেশগুলির। বিশ্ববাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়েছে। একাধিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এদিকে, আশঙ্কার মেঘ কাটার কোনও লক্ষণ নেই। যুদ্ধ থামানোর কোনও সদিচ্ছা ইরান বা আমেরিকার আছে বলে তো মনে করছেন না বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাতে উলুখাগড়ার প্রাণ গেলেও কোনও সমস্যা নেই। আজই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারই মধ্যে ফের ইরানে তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বোমা বিস্ফোরণের হুঁশিয়ারি
আজ, অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধে নাগাদ দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর কী হবে? এই বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমের তরফে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,”সংঘর্ষবিরতি শেষ হলেই বোমা বিস্ফোরণ হবে।” দুই দেশের চুক্তির বিষয়ে, আলোচনায় ইরান যোগ দেবে কি না প্রশ্ন করা হলে বলেন, “আমি জানি না। মানে, তাদের সেখানে থাকার কথা। আমরাও সেখানে(শান্তি আলোচনায়) থাকতে রাজি হয়েছিলাম। যদিও তারা বলছে আমরা রাজি হইনি। কিন্তু এটা ঠিক নয়। আয়োজন করা হয়েছে। আমরা দেখব তারা আসে কি না। যদি তারা না আসে, সেটাও ঠিক আছে।” অর্থাৎ ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, চুক্তি ছাড়া সংঘর্ষবিরতি শেষ হলে ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে চলেছে।
পরমাণু শর্ত নিয়ে কী বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও মনে করে দিয়েছেন পরমাণু-শর্ত নিয়ে আমেরিকার অবস্থান একই আছে। ট্রাম্প বলেন,”কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নয়। খুবই সহজ। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।”
এদিকে, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা করতে রাজি আমেরিকা। ইসলামাবাদে সেই প্রস্তুতিও নেওয়া শুরু হয়েছে বলে খবর। আবারও জেডি ভান্সের নেতৃত্বেই পাকিস্তানে যাবে আমেরিকার প্রতিনিধি দল। যদিও,ট্রাম্প আগে বলেছিলেন যে,জেডি ভান্স পাকিস্তানে যাবেন না। কিন্তু,তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ভাইস প্রেসিডেন্টই প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স,বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারসহ একটি উচ্চ-পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এদিকে, শান্তি বৈঠক নিয়ে ইরানের তরফে কোনও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়নি।